নয়াদিল্লি, ২২ এপ্রিল (আইএএনএস): ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পিতৃত্ব প্রমাণিত না হওয়ায় নাবালিকা সন্তানের ভরণপোষণের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আইনি অনুমানের চেয়ে প্রাধান্য পাবে।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন.কে. সিংয়ের বেঞ্চ দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখে মহিলার দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দেয়। হাইকোর্ট আগেই সন্তানের ভরণপোষণ নাকচ করলেও মহিলার নিজের ভরণপোষণের দাবি পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতে পাঠিয়েছিল।
মামলার সূত্রপাত এক বিবাদ থেকে, যেখানে আবেদনকারী মহিলা দাবি করেন যে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তাঁদের বিয়ে হয় এবং পরের মাসেই একটি সন্তানের জন্ম হয়।
দাম্পত্য কলহের পর মহিলা ‘গার্হস্থ্য হিংসা থেকে নারীর সুরক্ষা আইন, ২০০৫’-এর অধীনে অন্তর্বর্তী ভরণপোষণের আবেদন করেন। এই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি পিতৃত্ব অস্বীকার করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করে।
ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে স্পষ্ট হয় যে তিনি ওই সন্তানের জৈবিক পিতা নন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ট্রায়াল কোর্ট সন্তানের ভরণপোষণের আবেদন খারিজ করে, যা পরবর্তীতে আপিল আদালত ও হাইকোর্টও বহাল রাখে।
সুপ্রিম কোর্টে মূল বিতর্ক ছিল ভারতীয় প্রমাণ আইন-এর ১১২ নম্বর ধারার অধীনে বৈধ বিবাহে জন্মানো সন্তানের বৈধতার অনুমান নিয়ে। আদালত জানায়, এই বিধান শিশুকে অবৈধতার কলঙ্ক থেকে রক্ষা করতে তৈরি হলেও, যেখানে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে, সেখানে তা অগ্রাহ্য করা যায় না।
আদালত পর্যবেক্ষণ করে, “আইনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট—শিশুকে সামাজিক কলঙ্ক থেকে রক্ষা করা। তবে যখন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সামনে আসে, তখন তা প্রাধান্য পাবে।”
এক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষা উভয় পক্ষের সম্মতিতে হয়েছে এবং তা নিয়ে পরে কোনও আপত্তি ওঠেনি, ফলে সেটি চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়েছে বলে জানায় আদালত।
তবে শিশুর কল্যাণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরকে শিশুটির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। শিশুর শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে, মহিলার নিজস্ব ভরণপোষণের দাবির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ইতিমধ্যেই নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।



















