আগরতলা, ১৪ এপ্রিল: আমতলী থানার অন্তর্গত বারুইপাড়া এলাকায় এক মহিলার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে এলাকাবাসীর তীব্র চাপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত কল্যাণী ঘোষ নামে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কল্যাণী ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় উশৃঙ্খল আচরণের জন্য পরিচিত। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং আমতলী থানায় তার নামে একাধিক মামলাও দায়ের হয়েছে। এমনকি তিনি জেলও খেটেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ, তিনি প্রায়শই এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কখনও কখনও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলাও চালান। এতে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সোমবার বিকেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন অভিযোগ অনুযায়ী, কল্যাণী ঘোষ আচমকা প্রতিবেশী বাসুদেব দত্তের উপর ধারালো দা দিয়ে হামলা চালান। এতে গুরুতরভাবে আহত হন বাসুদেব দত্ত, বিশেষ করে তার হাতে গভীর আঘাত লাগে।
এরপর মঙ্গলবার বিকেলে আহত ব্যক্তি আমতলী থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগে লিখিত মামলা দায়ের করেন। একই দিন বিকেলে আবারও এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়, যখন কল্যাণী ঘোষ পুনরায় উশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন এবং স্থানীয়দের হুমকি ও গালিগালাজ করতে থাকেন।
এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদে সামিল হন এবং পুলিশের কাছে অভিযুক্তের গ্রেফতারের দাবি জানান। খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়দের দাবির মুখে কল্যাণী ঘোষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি তার বাড়ি থেকে একটি ধারালো দা উদ্ধার করে পুলিশ।
এলাকাবাসীদের দাবি, এই মহিলার ক্রমাগত তাণ্ডবে এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাই তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।



















