মেঘালয়কে রপ্তানি হাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরবিএসএম ২০২৬ উদ্বোধন, ‘মেঘারাইজ’ ব্র্যান্ড চালু

শিলং, ৪ ফেব্রুয়ারি : মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এখন লেনদেনভিত্তিক বাণিজ্যের বদলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে। এই লক্ষ্যেই একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেম তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় আনারস ও উচ্চ কারকিউমিনসমৃদ্ধ লাখাডং হলুদের মতো দেশজ পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে।

মেঘালয় সরকার, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে শিলংয়ের স্টেট কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে রিভার্স বায়ার-সেলার মিট ২০২৬। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মেঘালয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক এবং বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংযোগ স্থাপন করে রাজ্যের রপ্তানি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাজ্যের এমএসএমই ও রপ্তানি ইকোসিস্টেমের জন্য একক পরিচিতি তৈরি করতে ‘মেঘারাইজ’ ব্র্যান্ড ও লোগো উদ্বোধন। পাশাপাশি চালু হয়েছে রাজ্যস্তরের এমএসএমই পোর্টাল, যা ব্যবসা সহজীকরণ, সরকারি প্রকল্পে সহজ প্রবেশাধিকার এবং উদ্যোক্তাদের ডিজিটালভাবে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু ব্যবসা করতে আসিনি, আমরা অংশীদারিত্ব গড়তে এসেছি।” তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, উন্নত লজিস্টিকস ও অবকাঠামোগত সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

আরবিএসএম ২০২৬–এর মাধ্যমে মেঘালয়ের রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক বৈঠকের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নতুন বাজার অন্বেষণ ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন।

এই অনুষ্ঠানে রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, বাহরিন, শ্রীলঙ্কা ও আজারবাইজান-সহ ১৫টি দেশের ক্রেতারা অংশ নিচ্ছেন। ৩০০-র বেশি এমএসএমই বিক্রেতা হাততাঁত ও হস্তশিল্প, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মশলা, মধু, ভেষজ ও ওয়েলনেস পণ্য, মৃৎশিল্প এবং কাঠভিত্তিক হস্তশিল্প প্রদর্শন করছেন।

দু’দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে ১২৫টিরও বেশি প্রদর্শনী স্টল রয়েছে, যেখানে লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন ও বাছাই করা পণ্যের প্রদর্শনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সরাসরি অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। উদ্বোধনের পরপরই কাঠামোবদ্ধ বি২বি বৈঠক শুরু হয়েছে।

উপ-মুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াভভালাং ধর আরবিএসএম ২০২৬–কে মেঘালয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অংশগ্রহণকারী বিক্রেতারা সকল বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ ও ডকুমেন্টেশন সম্পূর্ণ করে রপ্তানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর কথায়, এই আয়োজন রাজ্যের উদ্যোগগুলির আত্মবিশ্বাস ও বৈশ্বিক বাজারে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিরই প্রতিফলন।
_____

Leave a Reply