দরং রাজাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ৫০ কোটি টাকার অনুদান, কোচ রাজবংশের ঐতিহ্যকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

গুয়াহাটি, ২ ফেব্রুয়ারি : অসমের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রবিবার দরং জেলার পিপোরা দোকানে অনুষ্ঠিত ৫১৬তম বিশ্ব মহাবীর চিলারাই দিবস উদযাপনে তিনি দরং রাজাদের ঐতিহ্য রক্ষায় ৫০ কোটি টাকার অনুদানের কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে কোচ রাজবংশের রাজকীয় ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করে তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসমের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার রক্ষা করা এবং আগামী প্রজন্মকে রাজ্যের গৌরবময় অতীতের সঙ্গে যুক্ত রাখা রাজ্য সরকারের অঙ্গীকার। তিনি দরং জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত দফতরকে অবিলম্বে ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প হাতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ, সংস্কারের কাজ যেন কোচ রাজবংশের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও অসমের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বিকাশে তাদের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দরং রাজ্যের মহারাজ কৃষ্ণনারায়ণের মূর্তি উন্মোচন করেন এবং ভার্চুয়ালি মঙ্গলদৈ ও গোলাঘাটে নির্মিত চিলারাই ভবনের উদ্বোধন করেন।
মহাবীর চিলারাইকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শর্মা তাঁকে অসমের ইতিহাসের “সোনালি অধ্যায়ের রূপকার” বলে উল্লেখ করেন। কোচ রাজবংশের উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাচীন কামরূপে কোচ জনগোষ্ঠীর আবির্ভাব, পাল রাজবংশের পতনের পর তাদের পুনরুত্থান এবং বিশ্ব সিংহের হাত ধরে কোচ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা—এই ধারাই পরবর্তীতে মহারাজ নারায়ণনারায়ণের আমলে শিখরে পৌঁছায়, যেখানে চিলারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে বজ্রগতির আক্রমণের জন্যই চিলারাই এই নাম অর্জন করেন। তাঁর নেতৃত্বে স্থল ও নৌবাহিনী সমন্বিত একটি সুসংগঠিত সামরিক কাঠামো গড়ে ওঠে, যার ফলে আহোম, কাছাড়ি, জৈন্তিয়া, ত্রিপুরা ও শিলেট অঞ্চল পর্যন্ত সাফল্য অর্জিত হয়। ঐতিহাসিক গোহাইন কামাল আলি সড়ক নির্মাণকেও তিনি চিলারাইয়ের দূরদর্শিতার নিদর্শন বলে উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নারায়ণনারায়ণ ও চিলারাইয়ের আমলে কামাখ্যা ও হয়গ্রীব মাধব মন্দিরের পুনর্নির্মাণ অসমের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণের প্রতীক।
এদিন তিনি আমিনগাঁওয়ে অল অসম কোচ রাজবংশী সন্মিলনীর জন্য জমি বরাদ্দ ও একটি কার্যালয় নির্মাণের ঘোষণাও করেন। তাঁর কথায়, অসমের আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয় রক্ষায় রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply