News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে সামাজিক, আর্থিক, পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রের উন্নয়নে অভাবনীয় ক্রান্তি এসেছে: ডোনার মন্ত্রী
Image

বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে সামাজিক, আর্থিক, পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রের উন্নয়নে অভাবনীয় ক্রান্তি এসেছে: ডোনার মন্ত্রী

আগরতলা, ২৩ জানুয়ারি: কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রকের অধীনে আজ রাজ্যে প্রায় ২২০ কোটি টাকার ৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করা হয়। কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার উপস্থিতিতে প্রজ্ঞা ভবনে এই প্রকল্পগুলির উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর যুগপৎ প্রতিজ্ঞা এবং নেতৃত্বের দরুণ আজ ত্রিপুরা রাজ্য এক উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে সামাজিক, আর্থিক, পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রের উন্নয়নে অভাবনীয় ক্রান্তি এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন ভারত গঠনে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভূমিকাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই এই অঞ্চলের ৮টি রাজ্যকে অষ্টলক্ষ্মী রূপে চিহ্নিত করে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির মাধ্যমে উন্নয়নের এক নতুন দিশায় চালিত করতে ব্রতী হয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলির সময় এই অঞ্চলকে একটি পিছিয়েপড়া অংশরূপে গণ্য করা হত। বর্তমান সরকারের সময়ে এই অংশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আজ ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তিনদিনের রাজ্য সফরে এসেছেন।

আজ কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রকের আওতাধীন ৩টি প্রকল্প যথাক্রমে প্রায় ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি জেলায় ২৭৪টি দুর্গম অঞ্চলে সোলার মাইক্রো গ্রীডের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, ৫০ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে যতনবাড়ি থেকে মন্দিরঘাট পর্যন্ত ১৩.৭৮ কিলোমিটার রাস্তা এবং ২১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গন্ডাছড়া থেকে নারকেলকুঞ্জ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার উদ্বোধন করা হয়। তাছাড়া ২১ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জম্পুইহিল থেকে কাঙ্গরাই পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তা, ৩০ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কোয়াইফাৎ থেকে করবুক পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা এবং ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আর কে নগরে ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনায় ডোনার মন্ত্রী ত্রিপুরা রাজ্যের রাজ পরিবারের সঙ্গে তাঁর নিজ পরিবারের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে এরাজ্যের মানুষকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলনে, ত্রিপুরা রজোর নদী, পাহাড়, জঙ্গল সর্বত্রই জীবন্ত ইতিহাস বিদ্যমান। রাজ্যের উন্নয়নে এই পরম্পরা ও ইতিহাসকে সাক্ষী রেখেই সকলকে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনার মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে ৫২টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের মোট বাজেটের ১০ শতাংশ অর্থ বর্তমান সময়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য ব্যয় করা হচ্ছে। গত ১২ বছরে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রজাগুলির উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ কোটি টাকা এবং শুধুমাত্র গত বছরেই এক লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ফলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে প্রত্যেক বছর প্রায় ১১ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে ত্রিপুরা রাজ্যে বৃদ্ধির হার বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে রাজ্যের উন্নয়ন প্রতিটি মানুষকে স্পর্শ করছে। রেল, সড়ক পথের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে সাব্রুম পর্যন্ত রেল পথের পাশাপাশি রাজ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের অধিক জাতীয় সড়ক রয়েছে। ত্রিপুরা বর্তমানে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্য। বর্তমান সরকারের আমলে শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ প্রচুর পরিমাণে আসছে।

অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়কালে বর্তমানে রাজ্যে প্রকৃত স্বর্ণযুগ চলছে। নীতি আয়োগের তথ্য অনুসারে ত্রিপুরা বর্তমানে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজাগুলির মধ্যে জিএসডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে রাজ্য পুরস্কৃত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় রাজ্যের উপর প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা ছিল। সেই দায় মাথায় নিয়ে বর্তমান সরকার রাজ্য ও রাজ্যবাসীর উন্নয়নে কাজ করে চলছে। হর ঘর তিরঙ্গা, এক পেড় মা কে নাম, ৭৫ সীমান্ত গ্রাম বীরোকে নাম, লোকাল ফর ভোকাল কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের আপামর জনসাধারণকে দেশাত্মবোধের ভাবনায় উজ্জীবিত করতে পেরেছেন। যা দেশ ও রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অংশুমান দে। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ, উত্তর পূর্বাঞ্চল পরিষদের সচিব সত্যেন্দ্র কুমার ভল্লা, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার।

Releated Posts

বক্সনগরে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শুনলেন  রাজ্যপাল

বক্সনগর, ২৬ এপ্রিল: বক্সনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩৩তম পর্বে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের…

ByByReshmi Debnath Apr 26, 2026

উচ্ছেদের নোটিশ ঘিরে অভয়নগরে উত্তেজনা, রাস্তা অবরোধে বিক্ষোভ বাসিন্দাদের

আগরতলা, ২৬ এপ্রিল: স্মার্ট সিটি প্রকল্পের আওতায় অভয়নগরের কাটা খাল সংস্কারকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদের নোটিশ জারি হওয়ায় এলাকায়…

ByByReshmi Debnath Apr 26, 2026

বাধারঘাট মন্ডলের উদ্যোগে ‘মন কি বাত’-এর ১৩৩তম পর্ব সম্প্রচার, শুনলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য

আগরতলা, ২৬ এপ্রিল: বাধারঘাট মন্ডলের উদ্যোগে ২৪ নং বুথে রবিবার সাড়ম্বরে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর…

ByByReshmi Debnath Apr 26, 2026

পশ্চিমবঙ্গে ‘মন কি বাত’ শ্রবণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, উত্তর-পূর্বের বাঁশ শিল্পে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

আগরতলা, ২৬ এপ্রিল:আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির  জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত -এর ১৩৩তম পর্ব শ্রবণ করলেন…

ByByReshmi Debnath Apr 26, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top