News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • ‘দোষীদের কোনোভাবেই ছাড়া হবে না, সবাই ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবে’, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা
Image

‘দোষীদের কোনোভাবেই ছাড়া হবে না, সবাই ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবে’, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

থিম্পু/নয়াদিল্লি: দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নয়জন নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কড়া বার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ভুটানের থিম্পু থেকে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। সকল দোষীকেই ন্যায়বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভুটানের থিম্পুতে ছাঙলিমেথাং সেলিব্রেশন গ্রাউন্ডে এক সমাবেশে ভাষণ দেন। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেয়াল ওয়াংচুক এবং চতুর্থ রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক-কে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে সহ রাজ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানের রাজ পরিবার এবং যাঁরা বিশ্ব শান্তিতে বিশ্বাসী, তাঁদের কাছে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত-ভুটানের মধ্যে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দিল্লি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দিল্লিতে যা ঘটেছে তা ভয়াবহ। যেসব পরিবার প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাদের যন্ত্রণা আমি অনুভব করছি। গোটা দেশ আজ তাদের পাশে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি খুব ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এখানে এসেছি। গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লির ভয়াবহ ঘটনা আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। কাল সারারাত ধরে আমি সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। তদন্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের তদন্ত সংস্থাগুলি এই ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত যাবে। যারা যারা এই ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে। একজনকেও রেয়াত করা হবে না।

শ্রী মোদী বলেন, ভারত “বসুধৈব কুটুম্বকম”, অর্থাৎ এক পরিবারের আদর্শে বিশ্বাসী। ভুটানে বিশ্বশান্তি প্রার্থনা উৎসবে ভারতের যোগদানের কথা জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, গোটা বিশ্বের সাধু-সন্তরা বিশ্বশান্তির জন্য এখানে একত্রিত হয়েছেন এবং এই প্রার্থনায় সঙ্গী হয়েছেন ১৪০ কোটি ভারতীয়ও।

ভুটানের চতুর্থ রাজার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জীবনকে জ্ঞান, সারল্য, সাহস ও নিঃস্বার্থ সেবার সঙ্গম হিসেবে বর্ণনা করেন। শ্রী মোদী বলেন, মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি শাসনভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এবং অপত্য স্নেহ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তার ৩৪ বছরের শাসনে ভুটান তার ঐতিহ্য রক্ষা করে এগিয়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সীমান্ত এলাকায় শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছেন বলেও মন্তব্য করেন শ্রী মোদী।

ভারত ও ভুটানের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধনকে মজবুত করার ক্ষেত্রে চতুর্থ রাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দুই দেশের এই বন্ধনকে সযত্নে লালন-পালন করে চলেছেন। শ্রী মোদী বলেন, “ভারত ও ভুটান শুধুমাত্র সীমান্তের মাধ্যমে যুক্ত নয়, দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনও রয়েছে। মূল্যবোধ, ভালোবাসা, শান্তি ও অগ্রগতি আমাদের বন্ধুত্বের মূল মন্ত্র। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কঠিন সময়ে দুই দেশ পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছে, মিলিতভাবে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছে এবং এখন একসঙ্গে সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ রাজা ভুটানকে এবং দুই দেশের আস্থা ও বিশ্বাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। ভারত-ভুটান জলবিদ্যুৎ সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলা রাজার জন্যই সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শ্রী মোদী। বিশ্বের প্রথম কার্বন-ঋণাত্মক দেশ হিসেবে ভুটানের স্বীকৃতিকে এক অনন্যসাধারণ সাফল্য আখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের বিদ্যুতের চাহিদার ১০০ শতাংশই অচিরাচরিত শক্তি থেকেই উৎপাদিত হয়। আজ আরও ১০০০ মেগাওয়াটের বেশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যেই ভারত-ভুটান সম্পর্ক আবদ্ধ নেই, সৌরশক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভারত গত বছর ১০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হরেছিল। রাস্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই টাকা খরচ করা হচ্ছে এবং ভুটানের মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হয়ে উঠছে। শিক্ষা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্রীড়া, মহাকাশ ও সাংস্কৃতিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র দুই দেশের তরুণদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজগীরে সম্প্রতি চালু হওয়া ভুটানের মন্দিরের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, দেশের অন্যান্য অংশ এই ধরনের মন্দির তৈরি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বারাণসীতে এই ধরনের মন্দির তৈরির জন্য সরকার জমি দিয়ে সহায়তা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এইসব মন্দিরকে ভারত ও ভুটনের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধনকে মজবুত করার হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং পারস্পরিক অগ্রগতি অক্ষুন্ন রাখতে দুই দেশ একযোগে প্রয়াস চালিয়ে যাবে।

Releated Posts

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত: বিদেশ মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর(আইএএনএস) : বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত আগ্রহী। একই সঙ্গে বিদ্যমান…

ByBySandeep Biswas Sep 22, 2026

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার নিয়ে ভারত-জাপান আলোচনা

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার, যৌথ মহড়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার…

ByByNews Desk Sep 22, 2026

ভারত ও ওপেকের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদারে ঐকমত্য

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলির সংগঠন ওপেক জ্বালানি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার…

ByByNews Desk Sep 22, 2026

পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত ভারত-নরওয়ের

অসলো, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পরিবেশ ও জলবায়ু ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল ভারত ও নরওয়ে।…

ByByNews Desk Sep 22, 2026
Scroll to Top