News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • দাসত্বের যুগে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল ভারতের জাগরণের কণ্ঠস্বর: প্রধানমন্ত্রী
Image

দাসত্বের যুগে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল ভারতের জাগরণের কণ্ঠস্বর: প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ০৭ নভেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ (শুক্রবার) রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে জাতীয় গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী উদ্‌যাপনের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাসত্বের যুগে ‘বন্দে মাতরম’ হয়ে উঠেছিল ভারতের জাগরণের কণ্ঠস্বর এমন এক ঘোষণা, যা বলেছিল মা ভারতীর শৃঙ্খল ভাঙবে তাঁরই সন্তানদের হাতে।

মোদি বলেন, মানবজাতির চিরন্তন যাত্রাপথে আমরা নানা সময়ে নতুন শিক্ষা নিয়েছি। সেই শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের সভ্যতার মূল্যবোধ ও আদর্শ গড়ে উঠেছে। আমাদের পূর্বপুরুষ, ঋষি-মুনি ও মহাপুরুষরা আমাদের এক অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সুজলাং সুফলাং, মালয়জ শীতলাং, শস্যশ্যামলাং, মাতরম!’— এই পংক্তিতে মাতৃভূমির প্রতি প্রণাম নিবেদন করা হয়েছে, যিনি সৌন্দর্য, ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যে ভরপুর। এই ভূমিই ভারতের সহস্রাব্দ প্রাচীন পরিচয় বহন করে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’ প্রকাশ করেন তাঁর সাময়িকী বঙ্গদর্শন-এ। অনেকে ভেবেছিলেন এটি কেবল একটি গান। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি হয়ে উঠেছিল ভারতের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর, কোটি কোটি ভারতবাসীর জাগরণের প্রতিধ্বনি, বলেন মোদি।

তিনি বলেন, অত্যন্ত কঠিন সময়েও, যখন দেশে হতাশা ও ধ্বংস নেমে এসেছিল, তখনও বঙ্কিমবাবু স্বপ্ন দেখেছিলেন এক সমৃদ্ধ ভারতের। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারত আবারও তার সোনালি যুগে ফিরবে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি উচ্চারণ করেছিলেন ‘বন্দে মাতরম’।

মোদি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গান কীভাবে বিপুল অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। “বীর সাভারকরসহ বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী একে অপরকে ‘বন্দে মাতরম’ বলে অভিবাদন জানাতেন। অনেকে মৃত্যুদণ্ডের মঞ্চেও ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি তুলেছিলেন,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্ণ হবে। ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অক্ষয় নবমীর দিন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গানটি রচনা করেন এবং পরে এটি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস *আনন্দমঠ*-এ স্থান পায়। মাতৃভূমিকে শক্তি, ঐশ্বর্য ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করে এই গান ভারতের আত্মসম্মান ও ঐক্যের কবিতাময় প্রকাশ হয়ে ওঠে।

গত ১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দেশজুড়ে এই ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহৎ আকারে উদ্‌যাপনের অনুমোদন দেয়, যাতে বিশেষত তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রছাত্রীরা গানটির মূল বিপ্লবী চেতনার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে।

এছাড়া বিজেপি দেশজুড়ে দুটি সাংস্কৃতিক মাইলফলক বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর এবং আদিবাসী বীর ভগবান বীরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী — উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Releated Posts

ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ২০২৭ সালের শুরুতে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা: পীযূষ গোয়েল

মুম্বই, ২১ জুন (আইএএনএস): ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চলতি বছরের…

ByByNews Desk Jun 21, 2026

ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য উপহার যোগ: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

জবলপুর, ২১ জুন (আইএএনএস): ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের গ্যারিসন গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বৃহৎ যোগ কর্মসূচিতে…

ByByNews Desk Jun 21, 2026

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কলকাতা, ২১ জুন (আইএএনএস) : ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর প্রতি যোগকে দৈনন্দিন…

ByByNews Desk Jun 21, 2026

ওডিশার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাজির ভূয়সী প্রশংসা মোদির, তুলে ধরলেন ‘পূর্বোদয়’-এর রূপরেখা

ভুবনেশ্বর, ২০ জুন (আইএএনএস): ওডিশায় বিজেপি সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার রাজ্যের…

ByByNews Desk Jun 20, 2026
Scroll to Top