News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • উত্তরপূর্বাঞ্চলে অনুপ্রবেশ অব্যাহত, ত্রিপুরায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, কঠোর ব্যবস্থার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি নেসো-র
Image

উত্তরপূর্বাঞ্চলে অনুপ্রবেশ অব্যাহত, ত্রিপুরায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, কঠোর ব্যবস্থার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি নেসো-র

আগরতলা, ১৮ আগস্ট: উত্তরপূর্বাঞ্চলে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। তাতে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নিজস্ব জাতিসত্ত্বা আজ হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ত্রিপুরায় এই সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তাই অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর নিকট চিঠি দিয়ে আবেদন জানিয়েছে নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস’ অর্গানাইজেশন (নেসো)।

প্রসঙ্গত, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে উত্তরপূর্বাঞ্চলের আটটি প্রধান ছাত্র সংগঠনকে প্রতিনিধিত্বকারী নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস’ অর্গানাইজেশন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চিঠিতে নেসো জানিয়েছে, স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই উত্তর-পূর্বে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে এবং এই সমস্যা এখন এক গভীর সঙ্কটে রূপ নিয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন জায়গার সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ত্রিপুরার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। যেখানে স্থানীয় আদিবাসী জনগণ আজ নিজেদের ভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, অসমে অনুপ্রবেশ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু সেই চুক্তির অধিকাংশ দফা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়াও মেঘালয়ে ১৯৭৯, ১৯৮৭ এবং ৯০-এর দশকের শুরুতে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলনের উল্লেখ করে নেসো জানিয়েছে যে, “ভয়ংকর জনসংখ্যাগত পরিবর্তন আজ উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে গারো হিলসের সমতল অঞ্চলসহ অন্যান্য অংশে।

নেসোর দাবি, বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সত্ত্বেও সরকার কেবলমাত্র সাময়িক বা প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান এখনও অধরা হয়ে রয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণ আজ নিজ নিজ পরিচয় ও অধিকারের রক্ষায় আত্মনির্ভর হয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছে। এই সমস্যা শুধুমাত্র প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক নয়—এটি একেবারে অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নিজস্ব জাতিসত্ত্বা আজ হুমকির মুখে।

তাই সংগঠনের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের নিকট ছয় দফা দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হল, অবিলম্বে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে সিল করা, সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো,
প্রতিবেশী রাজ্য ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে অনুপ্রবেশকারীদের স্থানান্তর রোধ এবং আদিবাসী জনগণের অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা, রাজনৈতিক ও ভূমি অধিকার রক্ষায় আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে বিষয়টি যথাযোগ্য গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

Releated Posts

মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করছে বামফ্রন্ট: মনীষার মৃত্যুর ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপির

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ জুন: বরাবরের মতোই মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করছে বামফ্রন্ট। শান্তিনিকেতনের মহিলা কর্মী মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায়…

ByByReshmi Debnath Jun 17, 2026

আস্থা ও বিশ্বাস মানুষের জীবনকে আলোকিত করে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৭ জুন: আস্থা ও বিশ্বাস মানুষের জীবনকে আলোকিত করে, আর আধ্যাত্মিক চেতনা সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেখায়।…

ByByReshmi Debnath Jun 17, 2026

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আদালত চত্বর পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, সহায়তার আশ্বাস

আগরতলা, ১৭ জুন : আগরতলার অফিস লেন এলাকায় সোমবার গভীর রাতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আজ সকালে…

ByByReshmi Debnath Jun 17, 2026

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ, মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের

আগরতলা, ১৭ জুন: আগরতলায় যুব কংগ্রেসের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-এর এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে মানবাধিকার…

ByByTaniya Chakraborty Jun 17, 2026
Scroll to Top