News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • প্রথমবার ক্রোয়েশিয়া সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, ভারত-ক্রোয়েশিয়া সম্পর্ক আরও মজবুত করতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতি
Image

প্রথমবার ক্রোয়েশিয়া সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, ভারত-ক্রোয়েশিয়া সম্পর্ক আরও মজবুত করতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতি

জাগরেব, ১৮ জুন : ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী-র আমন্ত্রণে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী শ্রী আন্দ্রেয় প্লেনকোভিচ-এর আমন্ত্রণে তিনি ১৮ জুন ক্রোয়েশিয়া সফরে যান। এটি ছিল কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্রোয়েশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর, যা দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বিনিময় ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, ভারত–ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা জানান, ভারত ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে সুদীর্ঘকালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বহুত্ববাদ ও সমতার মতো অভিন্ন মূল্যবোধে ভিত্তি করে গঠিত।

এই সফরের মাধ্যমে ভারত-ক্রোয়েশিয়া অংশীদারিত্বে নতুন গতি এসেছে, বিশেষ করে পর্যটন, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান — (১) কৃষি সহযোগিতার উপর স্মারক, (২) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার কর্মসূচি, (৩) সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি , এবং (৪) জাগরেব বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দি চেয়ার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্মারক।

দুই নেতা ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর উদ্যোগের মাধ্যমে সংযোগ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সমুদ্র পরিবহণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হন। ক্রোয়েশিয়াকে মধ্য ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। তারা ইউএনসিএল অনুযায়ী সমুদ্র আইন, সার্বভৌমত্ব, ভৌগলিক অখণ্ডতা ও নৌপরিচালনার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে, দুই প্রধানমন্ত্রী জানান যে যৌথ গবেষণার জন্য উভয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলা জরুরি। তরুণ গবেষকদের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।

২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুই নেতা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ ও নিয়মিত সংলাপকে উৎসাহিত করেন।

ডিজিটাল প্রযুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে উভয় নেতা হেলথ-টেক, অ্যাগ্রি-টেক, ক্লিন-টেক, এআই, মেশিন লার্নিং ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলির মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এই লক্ষ্যেই ভারত-ক্রোয়েশিয়া স্টার্ট আপ ব্রিজ শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি বিনিময় প্রসঙ্গে, ২০২৬–২০৩০ সময়কালের মধ্যে সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার প্রস্তাব আসে। এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে দুই নেতা মনে করেন। সেইসঙ্গে, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মী চলাচলের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রস্তাবও গৃহীত হয়।

২২ এপ্রিল ২০২৫-এ জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্রোয়েশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। উভয় দেশ সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে। তারা সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মূল, সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংস এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। ইউএন, এফএটিএফ ও আঞ্চলিক মঞ্চগুলির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ১২৬৭ ইউএনএসসি স্যাংশনস কমিটির আওতাধীন সমস্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, প্রক্সি, সহায়তাকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। তাঁরা ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে টেকসই শান্তির আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা পরিস্থিতি নিরসনের ডাক দেন। দুই দেশ শান্তিপূর্ণ, মুক্ত ও সমৃদ্ধশালী ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী ভূমিকা থাকবে।

বহুপাক্ষিকতায় বিশ্বাস রেখে, দুই পক্ষ জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংস্কার, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যপদে সম্প্রসারণ-এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যাতে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতি বজায় থাকে।

অবশেষে, ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে দুই নেতা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত-ইইউ এফটিএ সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সফরের শেষে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রতি উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্রোয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

Releated Posts

স্বচ্ছতা ও বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে জিইএম: মোদি

নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, বৃহত্তর অংশগ্রহণ এবং উন্নত সুযোগের মাধ্যমে সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস (জিইএম) ভারতে সরকারি ক্রয়…

ByByNews Desk Aug 11, 2026

শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে ‘দ্বিচারিতা’, রাহুল গান্ধীকে ফের নিশানা বিজেপির

নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলে আক্রমণ আরও…

ByByNews Desk Aug 11, 2026

প্রতিটি ঘরে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’কে উৎসবে পরিণত করি: সক্রিয় জনঅংশগ্রহণের আহ্বান মোদির

নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): আগামী ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে দেশবাসীকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার…

ByByNews Desk Aug 11, 2026

ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলন ও সংসদ অচল নিয়ে মকর দ্বারে মুখোমুখি এনডিএ-বিরোধীরা

নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপ এবং সংসদে বারবার অধিবেশন ব্যাহত হওয়া নিয়ে মঙ্গলবার সংসদের…

ByByNews Desk Aug 11, 2026
Scroll to Top