News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • ২০০ বছর পুরনো ভূমিকম্প-পীড়িতদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত টাংমাং গ্রামে প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর সফর
Image

২০০ বছর পুরনো ভূমিকম্প-পীড়িতদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত টাংমাং গ্রামে প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর সফর

শিলং, ১৮ মে: মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা আজ ইস্ট খাসি হিলস জেলার পাইনুরসলা সাব-ডিভিশনের অন্তর্গত প্রাচীন টাংমাং গ্রাম পরিদর্শন করেন। এই প্রথমবারের মতো কোনও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এই গ্রামে পদার্পণ করলেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

টাংমাং গ্রামটি দুই শতাব্দীরও বেশি সময় আগে একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর আশ্রয়প্রার্থী জনসাধারণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রামের নাম “টাংমাং”-এর অর্থ “যথাযথ” বা “পর্যাপ্ত”, যা এই জনপদের সাংস্কৃতিক গভীরতার প্রতিফলন।

গ্রামবাসীদের অসাধারণ হস্তশিল্পে মুগ্ধ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, যাতে গ্রামটির হস্তশিল্প পণ্য বৃহৎ পরিসরে ক্রয় করে উচ্চপদস্থ অতিথিদের উপহারস্বরূপ প্রদান করা যায় এবং এই শিল্পকে মেঘালয়ের অনন্য পরিচয় হিসেবে তুলে ধরা যায়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি স্মরণীয় সফর। আমাদের সরকার বিশ্বাস করে যে উন্নয়ন হতে হবে সার্বিক। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি, এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যা সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হয়।”

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর টাংমাং গ্রাম, যেখান থেকে জলপ্রপাত ও নদী বাংলাদেশের সমতলে প্রবাহিত হয়, ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প ও বুনন কাজের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। গ্রামবাসীরা মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় হাতে তৈরি বাঁশের সামগ্রী ও মাদুর উপহার দেন।

এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী গ্রামে একটি “হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” স্থাপনের ঘোষণা দেন। এই কেন্দ্রে আধুনিক অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি এবং আবাসন সুবিধা থাকবে যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা গ্রামবাসী দক্ষ কারিগরদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

তিনি গ্রামবাসীদের তাদের উৎপাদন বাড়াতে, পণ্যের মানোন্নয়ন করতে এবং রাজ্যের বাইরের বাজারে প্রসার ঘটাতে উৎসাহিত করেন। সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী ‘সিএম-কানেক্ট’ সেশনেও অংশ নেন, যেখানে তিনি সরাসরি গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন।

একজন স্থানীয় ছাত্রের অনুরোধে তিনি ঘোষণা করেন যে, টাংমাং সেকেন্ডারি স্কুলের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন ‘মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন তহবিল’ থেকে দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাই আমাদের লক্ষ্য। এই জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) ও গ্রাম সংগঠনগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মেঘালয় ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (MDA) সরকার রাজ্যের কারিগর ও তাঁতিদের সমর্থনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

Releated Posts

অসমে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনে রাজ্যপালের অনুমোদন

গুয়াহাটি, ১৪ মে (আইএএনএস) : মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-র নেতৃত্বাধীন অসম সরকারের নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনে অনুমোদন দিলেন রাজ্যপাল।…

ByByTaniya Chakraborty May 14, 2026

মেঘালয় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন গাড়ির বহর উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

শিলং, ১৪ মে (আইএএনএস): মেঘালয় পুলিশের কার্যক্ষমতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং চলাচলের সুবিধা আরও শক্তিশালী করতে নতুন গাড়ির…

ByByTaniya Chakraborty May 14, 2026

২৬ মে অসম বিধানসভায় আনা হবে ইউসিসি বিল, ঘোষণা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

গুয়াহাটি, ১৩ মে : অসমে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) চালুর পথে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে অসম সরকার। বুধবার…

ByByTaniya Chakraborty May 13, 2026

অসমের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়, উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

গুয়াহাটি, ১৩ মে (আইএএনএস) : অসমের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন…

ByByTaniya Chakraborty May 13, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top