কৈলাসহর, ৩ মার্চ : ৪০ বছর পর অবশেষে রাস্তা পেলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে কৈলাশহর পুরপরিষদের ১৭ নং ওয়ার্ডে। স্থানীয়দের জায়গা দখল করেই নির্মিত হচ্ছে রাস্তা। অভিযোগে নেই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিলেন এক স্থানীয় নাগরিক। ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে কৈলাসহর পুর পরিষদের ১৭ নং ওয়ার্ডের লংলিরপাড় এলাকার মানুষ দুই ফুট রাস্তার উপর দিয়েই চলাফেরা করতো। পুরসভা এলাকায় থেকেও রাস্তার কারনে লংলিরপাড় এলাকার মানুষ সবকিছু থেকে বঞ্চিত ছিল। লংলিরপাড় এলাকায় কোনো ধরনের গাড়ি কিংবা অটো রিক্সা অব্দি যেতে পারে না। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে এলাকাবাসীরা উপযুক্ত রাস্তাঘাটের জন্য দাবী করে আসলেও কেউ রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নেয়নি।
অবশেষে, সাম্প্রতিককালে পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে লংলিরপাড় এলাকায় রাস্তা নির্মানের দরপত্র আহ্বান করলে স্থানীয় এক প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার এই রাস্তার কাজের বরাত পায়। লংলিরপাড় এলাকায় মোট ৬১৫মিটার রাস্তার কাজের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। দেড় কোটি টাকায় ৬১৫ মিটার রাস্তা নির্মানের সাথে একটি ব্রীজ এবং রিটেনিং ওয়াল ও ড্রেন স্থাপন করা হবে এবং প্রায় দশ ফুট প্রসস্থ রাস্তা নির্মান করা হবে। ঠিকাদার কাজের বরাদ্দ পাবার পর প্রথমে মাটি ফেলা শুরু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাজের শুরুতে মাটি ফেলার পর পাশের এলাকার বনরাজ সিনহা হঠাৎ করে প্রকাশ্য দিনের বেলায় বাঁশের তৈরি বেড়া রাস্তার উপর বসিয়ে দেন এবং কাজ বন্ধ রাখার জন্য শ্রমিকদের জানিয়ে দেন।
দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে উপযুক্ত রাস্তার অভাবে এলাকাবাসীরা নানান দুর্ভোগের শিকার হবার পর অবশেষে রাস্তার কাজ শুরুর পর গোটা এলাকাবাসীরা আনন্দিত হলেও ফের দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এলাকাবাসীরা। তবে, কাজে বাঁধা দেওয়ার ব্যাপারে বনরাজ সিনহাকে জিজ্ঞেস করলে উনি জানান যে, উনিও চান লংলিরপাড় এলাকায় রাস্তা নির্মান হউক। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে এলাকাবাসীরা উনার জায়গার উপর দিয়েই চলাফেরা করছেন। যে জায়গায় রাস্তা নির্মান হচ্ছে সেখানে উনার একাত্তর শতক জায়গা রয়েছে। অথচ, দপ্তরের পক্ষ থেকে উনার সাথে কোনো ধরনের আলাপ আলোচনা না করে উনার জুত জায়গা একুয়ার না করে কিংবা উনাকে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না দিয়ে জোর করে দপ্তর রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
কাজ শুরুর পূর্বে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উনি দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করার পরও উনার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করে কিংবা জায়গার মূল্য না দিয়ে কাজ শুরু করায় উনি উকিল নোটিশ ধরিয়ে তেসরা মার্চ নিজেই রাস্তার কাজে বাঁধা দিয়েছেন। বনরাজ বাবু প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন যে, এলাকায় দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে কোনো ধরনের ছোট বড় গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। তাই উনি নিজেও চান এলাকায় স্থায়ী বড় রাস্তা হউক । তবে, উনার নিজের একাত্তর শতক জুত জায়গার ন্যায্য মূল্য দিয়ে রাস্তা নির্মান করা হউক। আর, যতক্ষন অব্দি ন্যায্য মূল্য পাবেন না ততক্ষণ অব্দি রাস্তা নির্মানের কাজ বন্ধ থাকবে বলে জানান বনরাজ সিনহা।
অভিযোগ লংলিরপাড় এলাকায় যে ঠিকাদার রাস্তার কাজ করাচ্ছেন উনি এতটাই প্রভাবশালী যে, প্রকাশ্য দিনের বেলায় বিদ্যুৎ চুরি করে হুক লাইন ব্যবহার করে লোহার রড কাটচ্ছেন এবং অন্যান্য কাজেও বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের ম্যানেজ করে বিদ্যুৎ দপ্তরকে বুড়ি আংগুল দেখিয়ে জৈনক ঠিকাদার এভাবে প্রকাশ্য দিনের বেলায় বিদ্যুৎ চুরি করছেন। এখন দেখার বিষয়, আদৌ লংলিরপাড় এলাকায় রাস্তা নির্মান হয় কিনা।



















