ধর্মনগর, ৩ মার্চ : ধর্মনগর বাগবাসা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র মোহম্মদ ইকবাল হোসেনকে মিজোরাম-মায়ানমার সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। মোঃ ইকবাল অপহরণ কাণ্ড নিয়ে সিপিএম দল সরব হয়েছে। সিপিএম দলের এক প্রতিনিধিদল মোহাম্মদ ইকবালের বাড়িতে ছুটে যায় এবং সমস্ত ঘটনা অবহিত হওয়ার পর তদন্ত দাবি করা হয়।
চুরাইবাড়ি পাথর ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের পুত্র মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র মোহাম্মদ ইকবাল গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা নাগাদ ধর্মনগর নয়াপাড়া জিপ ষ্ট্যাণ্ড থেকে চুড়াইবাড়ি যাওয়ার জন্য একটি গাড়িতে উঠে। গাড়ি থেকেই মাকে ফোনে জানায় যে, সে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এরপর থেকে তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। গভীর রাত হওয়া সত্ত্বেও সে বাড়িতে ফিরে না আসার কারণে পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট সময়ে ঘরে ফিরে না আসার কারণে পরিবারের লোকজন আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, পাথর ব্যবসায়ী, নর্থ ত্রিপুরা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র শিক্ষক বন্ধু বান্ধব আরক্ষা প্রশাসন সকলেই ইকবালকে উদ্ধার করার কাজে, যার যেখানে যে সুযোগ ছিলো সেভাবে অনুসন্ধানে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রায় প্রত্যেকে সামাজিক মাধ্যমে ইকবালের নিরুদ্দেশের খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সবার উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত মোবাইল টাওয়ার লোকেশন জানা যায় সে মায়ানমার সীমান্তের কাছে মিজোরামের মুলপুই অবস্থান করছে। এই খবর পাওয়ার পর পরিযায়ী শ্রমিক, পরিচিত লোকজন যারা মিজোরাম বা মুলপুইয়ে আছে তাঁদের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আসামের হাফিজগঞ্জের আলতাফ হোসেন ও নিলাম বাজারের আব্দুল বাচিত নামে দুই নির্মাণ শ্রমিক ইকবালকে উদ্ধার করে মিজোরামে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
সে বাড়িতে আসার পর সিপিএম দলের বিধায়ক ইসলাম উদ্দিন, মহকুমা কমিটির সম্পাদক রতন রায়, সিপি আই(এম) উত্তর ত্রিপুরা জেলা ক মিটির সদস্য শীতল দাস, সিপিআই(এম)ধর্মনগর মহকুমা কমিটির সদস্য মোহিতোষ চক্রবর্তী, ত্রিপুরা দিন মজুর ইউনিয়নের ধর্মনগর মহকুমা কমিটির সম্পাদক আব্দুল কালাম, ডিওয়াইএফআই চূড়াইবাড়ি অঞ্চল কমিটির সভাপ তি উত্তম নাথ, সিআইটিইউ কর্মী শংকর দত্ত,কৌশিক তড়াৎ, ইক বালের বাড়িতে ছুটে যায়। পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে কুশল ও শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানানো হয়।
সিপিএম দলের পক্ষ থেকে ত্রিপুরা, আসাম এবং মিজোরাম সরকারের কাছে ইকবাল অপহরণ কাণ্ডের জন্য অবিলম্বে যৌথ পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠুভাবে দ্রুত তদন্ত টিম গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। অপরাধীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করা হয়েছে। ইকবাল হোসেন এবং তার পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করারও দাবী করা হয়েছে। প্রতিটি আন্তর্জাতিক এবং ইন্টার স্টেট চেক পোস্টে নজরদারি বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে।



















