কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল গ্রেফতারের পরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে ‘সিনিয়র’-দের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরেছেন কলকাতা পুলিশের একাধিক অফিসার। ফেসবুকে নিজের নাম-পরিচয় গোপন না-করেই একজন ইনস্পেক্টর লিখেছেন, ‘দাসত্ব আমার জন্মগত অধিকার।’ স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, কার ‘দাসত্ব’-র কথা বলছেন তিনি।
উঁচুতলার আইপিএস নাকি রাজনৈতিক নেতার? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিসারের কথায়, ‘এখন তো বেশিরভাগ নির্দেশ আসে, হয় হোয়াটসঅ্যাপ কল অথবা ফেসটাইমে। নিচুতলার অফিসার ফেঁসে গেলে সে জীবনেও প্রমাণ করতে পারবে না যে নির্দেশ আসলে উপরতলা থেকেই এসেছিল। লিখিত কোনও প্রমাণ বড় অফিসারেরা রাখেন না।’ এক অফিসারের দেওয়ালে ফুটে উঠেছে, ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ।’
কলকাতা পুলিশের এক অফিসার অঞ্জন সেন শুধুই ডিপি কালো করেছেন। সেখানে যে সব মন্তব্য তাঁর সহকর্মী বা জুনিয়ররা করেছেন, তাতে স্পষ্ট তাঁদের ক্ষোভ পুলিশের উপরমহলের বিরুদ্ধে। তবে খুব ‘সতর্ক’ ভাবে টালা থানার “প্রাক্তন” ওসি-র পাশে দাঁড়িয়ে কমেন্ট করতে দেখা গিয়েছে অনেককে।
তপেন্দু ঘোষ নামে আর এক অফিসার তাঁর প্রোফাইল কালো করা নিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘প্রেজ়েন্ট সিচুয়েশনে অভিজিৎ মণ্ডল বাবুর জন্য।’ কলকাতা পুলিশের এক ইনস্পেক্টরের দাবি, ‘পাবলিক আমাদের উপর খাপ্পা। তাদের গালাগালি খাচ্ছি। অথচ নির্দেশ তো আসছে শীর্ষমহল থেকে। তখন কি সত্যি ওসিদের কিছু করার থাকে?’ অফিসারদের প্রশ্ন, ‘আইপিএস-দের কেউ ছোঁবে না, বলির পাঁঠা হব আমরা?’
এক সাব ইনস্পেক্টর বলেন, ‘কোথায় সকলের টিকি বাঁধা আপনারাও জানেন। ভিলেন শুধু আমরা হই!’ তাঁর প্রশ্ন, ‘মানুষ কবে বুঝবেন যে রাঘব-বোয়ালদের বাঁচাতে আমাদের বলির পাঁঠা করা হচ্ছে?’
উল্টোদিকে কলকাতা পুলিশের এক আইপিএস অফিসারের কথায়, ‘এই ক্ষোভ সঙ্গত। ওঁরাই তদন্ত করেন, থানা সামলান। ফলে পাবলিকের ইজ়ি টার্গেট। অনেক সময় সত্যিই ওঁদের কিছু করার থাকে না। এমনকী আমাদেরও না!’


















