নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর:
কর্তব্যরত অবস্থায় ফের দুষ্কৃতীদের দ্বারা আক্রান্ত হলেন রাজ্যের সাংবাদিকরা। রবিবার মধ্যরাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে থানার ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে। এদিকে সাংবাদিকদের আক্রমণ করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীকারীরা। রাজধানীর বুকে রাতের আধাঁরে এভাবে সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনায় রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক গঠনের সদস্যরা পুলিশ হেড কোয়ার্টারে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এক ডেপুটেশন পেশ করেছেন। তিনি সাংবাদিক মহলের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার রাত ১টার দিকে ছয় সাংবাদিকের একটি দল চন্দ্রপুর আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন কিছু সংবাদের খবর পেয়ে নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে। হঠাৎ তাদের রাস্তা আটকে একটি চার চাকার গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলের সামনে এসে থামে। কিছু লোক গাড়ি থেকে নেমে কোনো কথা না বলেই সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর শুরু করে।
ইতিমধ্যেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আগরতলা পূর্ব থানায় একটি এফআইআর লিপিবদ্ধ করেছেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা। ঘটনার সময় সাংবাদিক প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য, মিহির লাল সরকার, প্রণব শীল এবং অন্যান্য জুনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা জানিয়েছেন, রবিবার রাত ১টা থেকে ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ মোটর স্ট্যান্ড থেকে মঠ চৌমুহনী যাওয়ার পথে তাদেরকে আক্রমণ করে দুষ্কৃতীরা। হামলাকারীদের মধ্যে সুকান্ত দেবনাথ (ওরফে নিশান), আকাশ বণিক এবং সৌরভ ভট্টাচার্যকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাদের সঙ্গে যে গাড়িটি ছিল সেটা হল টিআর০১- বি – ৪০৭৫৩ । দুর্বৃত্তরা তাদের থেকে নগদ টাকা ও একটি সোনার চেইনও ছিনিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা। এই আক্রমণের ফলে সাংবাদিকদের দুটি মোবাইল ও ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সোমবার ডেপুটেশন শেষে অ্যাসেম্বলি অফ জার্নালিস্ট – এর সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র সম্পাদক শানিত দেবরায় বলেছেন, “প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য, প্রণব শীল এবং মিহির লাল সরকার রাজ্যের মিডিয়া শিল্পের পরিচিত মুখ। তাদের সঙ্গে কয়েকজন জুনিয়র রিপোর্টারও ছিলেন। তারা প্রাপ্ত কিছু তথ্য যাচাই করতে যাচ্ছিলেন। আচমকা কিছু মোটরসাইকেল ও গাড়িতে থাকা দুর্বৃত্ত এসে তাদের মারধর শুরু করে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ গাড়ির চালককে আটক করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি জব্দ করেছে। আমরা আশা করি যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদের হুমকি দিয়ে ত্রিপুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রণব সরকার বলেন, “আমাদের রাজ্যের সংবাদ মহল বারবার আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে। নিহত হন দুই সাংবাদিক। একটি সংবাদপত্রের অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।” অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।



















