আগরতলা,৮ আগস্ট,২০২৪, স্বাধীনতা দিবস উ্যাপন উপলক্ষ্যে এবছরও রাজ্যে হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান কর্মসূচি পালন করা হবে৷ ভারত সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে এবছর রাজ্যে ৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত হর ঘর তিরঙ্গা অভিযানে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে রয়েছে তিরঙ্গা যাত্রা, তিরঙ্গা র্যালি, তিরঙ্গা রানস এণ্ড ম্যারাথনস, তিরঙ্গা কনসার্টস, তিরঙ্গা ক্যানভাস, তিরঙ্গা প্লেজ, তিরঙ্গা ট্রিবিউট, তিরঙ্গা মেলা ও তিরঙ্গা সেলফি৷ আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের সচিব ড. প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী এ সংবাদ জানান৷ সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের সচিব আরও জানান, স্বাধীনতা দিবস উ্যাপন উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য দেশের জনগণকে উৎসাহিত করতে ২০২২ সাল থেকে দেশব্যাপী হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান কর্মসূচি শুরু হয়৷ ২০২২ ও ২০২৩ সালের পর এবছর ততীয়বারের জন্য হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান পালন করা হচ্ছে৷ আগামী ১৩-১৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের নাগরিকদের নিজ বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার জন্য উৎসাহিত করা হবে৷
সাংবাদিক সম্মেলনে সচিব জানান, হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে গত ১ আগস্ট মুখ্যমী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে৷ সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের সচিব সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ৯ আগস্ট থেকে রাজ্যের সবকটি জেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিরঙ্গা যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে৷ ১২-১৩ আগস্ট যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে তিরঙ্গা র্যালি৷ তাছাড়াও ৯ আগস্ট থেকে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে তিরঙ্গা রানস এণ্ড ম্যারাথনসের আয়োজন করা হবে৷ আগামী ১৫ আগস্ট আগরতলা টাউনহলে রাজ্যভিত্তিক তিরঙ্গা কনসার্ট / সাংসৃকতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে৷
সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের সচিব আরও জানান, ৯-১৩ আগস্ট রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তিরঙ্গা ক্যানভাস লাগানো হবে৷ এই ক্যানভাসে জনসাধারণ হর ঘর তিরঙ্গা অথবা জয়হিন্দ কথাটি যেকোন ভারতীয় ভাষায় লিখে তাতে স্বাক্ষর করবেন৷ এই তিরঙ্গা ক্যানভাসটি হর ঘর তিরঙ্গা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে৷ সচিব আরও জানান, ৯-১৩ আগস্ট রাজ্যে হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান কর্মসূচিতে গত বছর যেসব স্থানে শিলাফলকম স্থাপন করা হয়েছে সেখানে তিরঙ্গা শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে৷ দেশ রক্ষায় যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ৯-১৩ আগস্ট রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তিরঙ্গা ট্রিবিউটের আয়োজন করা হবে৷ প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৯-১৩ আগস্ট তিরঙ্গা মেলার আয়োজন করা হবে৷ ১৩-১৫ আগস্ট রাজ্যের বিভিন্ন জনসমাগমস্থানে, অমৃত সরোবর, অমৃত বাটিকা, শিলাফলকম ইত্যাদি স্থানে সেলফি পয়েন্ট স্থাপন করা হবে৷ এই সেলফি পয়েন্টগুলিতে জাতীয় পতাকা সহ সেলফি তোলার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা হবে৷ পরে তা হর ঘর তিরঙ্গা ওয়েবসাইটে আপলোড করা যাবে৷ এছাড়াও রাজ্যবাসী নিজেদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সেলফি তুলে হর ঘর তিরঙ্গা ওয়েবসাইটে আপলোড করতে পারবেন৷
সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের সচিব আরও জানান, হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে রয়েছে গণ মাধ্যমে মুখ্যমীর আবেদন, জেলা প্রশাসন এবং নগর শাসিত সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাক্স, ব্যানার ইত্যাদি দিয়ে অভিযান সম্পর্কে প্রচার করা, পরিবহণ দপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন যানবাহনে স্টিকার লাগানো ইত্যাদি৷ তিনি জানান, টিটিএএডিসি’র প্রশাসনের উদ্যোগেও হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান কর্মসূচির আয়োজন করা হবে৷ তিনি জানান, এই অভিযান কর্মসূচিকে সর্বাত্মক সফল রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সমস্ত স্তরের সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারি সহ ক্লাব, এনজিও, সমাজসেবী এবং নাগরিক সমাজকেও যুক্ত করা হবে৷ গত বছরের মতো এবছরও ন্যায্য মূল্যের দোকানের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে৷ ত্রিপুরা হস্ততাঁত ও হস্তাকারু উন্নয়ন নিগম লিমিটেড, ত্রিপুরা শহুরি জীবিকা মিশন ও ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় জাতীয় পতাকার ব্যবস্থা করা হবে৷
সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের সচিব শ্রী চক্রবর্তী বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা আত্মবলিদান দিয়েছেন তাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এই অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধদ্ধ করা হচ্ছে৷ রাজ্যের সকলস্তরের জনগণের সার্বিক অংশ গ্রহণে এই অভিযান কর্মসূচি সফল হবে বলে সচিব সাংবাদিক সম্মেলনে আশাব্যক্ত করেন৷ সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা তপন কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন৷



















