নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ আগস্ট: শাসকদলের হামলা হুজ্জতি ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই বললেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
তাঁর কথায়, এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের যেকটি জায়গায় ভোট হয়েছে সেখানে বাধা প্রাপ্ত হয়েছেন বিরোধী দলের ভোটার এবং কর্মীরা। এমনকি বিজেপির টিকিট না পেয়ে যার নির্দল হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করছিলেন তাদেরকেও আক্রমণ করা হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং আরক্ষা প্রশাসন এর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি আর বলেন, ৭০শতাংশেরও বেশি আসনে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। যে কয়েকটি আসনে নির্বাচন হয়েছে তা নিয়েও যথেষ্ট চিন্তায় বিজেপি। সে কারণেই সেখানেও হামলা হুজ্জতি সহ পোলিং এজেন্টদের মারধর, ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি ভোটাররা কাকে ভোট দান করছেন সেই ছবি তুলে এনে দেখানোর জন্য হুমকি দিয়েছে বিজেপি কর্মীরা, এমনই দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ ও তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। বিরোধী এবং নির্দল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এছাড়াও জিরানিয়া, বামুটিয়া, মেখলিপাড়া সহ একাধিক জায়গায় ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঋষ্যমুখ ব্লকেও একইভাবে ভোটারদের বাধাদান করা হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা।
বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরায় ভোটের একটি ঐতিহ্য ছিল। উৎসবের মেজাজে এখানে ভোট হতো। কিন্তু বর্তমানে সেটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পাশাপাশি যেসব জায়গায় ভোটে হামলা হুজ্জতি সহ ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে সেসব এলাকায় পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
পাশাপাশি বাংলাদেশের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি রাজ্যবাসীকে আহবান করেন, পার্শ্ববর্তী দেশে যে পরিস্থিতি হয়েছে তা নিয়ে আবেগ, উৎকণ্ঠা রয়েছে রাজ্যসহ দেশবাসীর। সেটা স্বাভাবিক। তবে পার্শ্ববর্তী দেশের বিষয় নিয়ে রাজ্য যেন কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানি অথবা বিষয়গুলিকে অতিরঞ্জিত করে রাজ্যের কাছে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা না করা হয়, তার আহ্বান জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী।



















