নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৪ এপ্রিল: কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নাজিম উদ্দিন ধরপাকড় কান্ডে অবশেষে ধৃত এক জুয়েলারি মালিক। এমর্মে চুরাইবাড়ি পুলিশ ধৃতকে জেলা আদালতে সোপর্দ করেছে।
গত ২৯ মার্চ শুক্রবার মাঝরাতে ত্রাস সৃষ্টিকারী কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নাজিম উদ্দিনকে আটক করার পর উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি, বাগবাসা ও ধর্মনগর থানার পুলিশের হাতে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আর ৩০ মার্চ ধৃত ডাকাত নাজিমকে ধর্মনগর জেলা ও দায়রা আদালতে সোপর্দ করা হলে মাননীয় বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন। এরপর ধর্মনগর থানায় তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে চুরি যাওয়া বাইক সহ একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পায় পুলিশ।
পুলিশের একটি বিশেষ মহল থেকে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ থেকে ধর্মনগর ভাগ্যপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের মাটিতে প্রবেশ করে ডাকাত নাজিম উদ্দিন। পরবর্তীতে তার এক সহযোগী নিয়াজ উদ্দিন ও অনান্যদের সাথে নিয়ে উত্তর গঙ্গানগর একটি জঙ্গলে আস্তানা গাড়ে নাজিম ও তার সাগরেদরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পাশের একটি সম্ভ্রান্ত বাড়িতে ডাকাতি করা। তখন রাত প্রায় দুইটা ছুই ছুই,ডাকাত দল জঙ্গলে ভাত খেয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে ঠিক ঐ সময় গোপন খবরের ভিত্তিতে চুরাইবাড়ি থানার ওসি সমরেশ দাস, বাগবাসা থানা সহ জেলা পুলিশ
সুপারের একটি বিশেষ দল ঐ জঙ্গলে হানা দেয়।
হানা দেওয়া মাত্র কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ডাকাত সর্দার নাজিমকে ধরে ফেলে পুলিশ। তখন তার সাথে থাকা অপর ডাকাত নিয়াজ পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঐ জঙ্গল থেকে দুটি দেশি বন্দুক,দুটি দা,দুটি কাঁটার,লাঠি,কম্বল ইত্যাদি উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে এই মামলাটি দেওয়া হয় ধর্মনগর থানার সেকেন্ড ওসি সুলেমান রিয়াংকে। তিনি মামলা হাতে নিয়ে জোর তদন্ত শুরু করেন।
এদিকে চুরাইবাড়ি থানার ওসি সমরেশ দাস ডাকাত সর্দার নাজিমের পূর্ব রেকর্ড বের করতে তদন্ত শুরু করেন। তিনিও তদন্তে নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পান। তিনি জানতে পারেন,ধৃত নাজিম ২০১৫ সালে জিরানীয়াতে একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত করেছিল। তাছাড়া গত মাসে চুরাইবাড়ি থানাধীন লক্ষীনগর এলাকায় একটি ডাকাতি কান্ড সংঘটিত করে। আর ঐ ডাকাতি করে যে সমস্ত স্বর্ন নিয়ে আসে তা কদমতলার ইন্ডিয়ান ক্লাব সংলগ্ন এলাকার জনৈক বাসিন্দা শ্যামলাল দে(৪০), পিতা মৃত মানিক লাল দে)র নিকট বিক্রি করে। শ্যামলাল দের জুয়েলারি দোকান অসমের কাঁঠালতলী এলাকায়।
এরইমাঝে ধর্মনগর থানার পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে ধৃত ডাকাত নাজিমকে সাথে নিয়ে উত্তর গঙ্গানগরের ঐ জঙ্গল থেকে একটি পালসার ২২০ সিসি বাইক উদ্ধার করে। এদিকে বুধবার দুপুর পৌনে একটা নাগাদ চুরাইবাড়ি থানার ওসি সমরেশ দাস কদমতলা থানার সহযোগিতা নিয়ে শ্যামলালের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কোন কিছুই প্রকাশ করতে চাইছে না। ঘটনার তদন্ত ক্রমে পুলিশের হাতে আরো তথ্য লাগবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন পুলিশের আধিকারিক গণ।



















