কলকাতা, ১২ ডিসেম্বর (হি.স.): উত্তরবঙ্গের মানুষ আদৌ পরিষেবা পাচ্ছে কিনা, তা দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে উত্তরকন্যা অভিযানে যেতে চেয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অনুমতি না থাকায় বিরোধী দলনেতা সহ বিজেপি বিধায়কদের পথ আটকায় পুলিশ।
কোচবিহারের বিধায়ক মিহির গোস্বামী এবং বিজেপির অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে উত্তরকন্যা যাওয়ার পথে বাধা পেয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান শুভেন্দুবাবু। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। কেন উত্তরকন্যা যেতে পারছেন না বিজেপি বিধায়কেরা, প্রশ্ন তোলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
উত্তরকন্যা পৌঁছনের আগেই বিরোধী দলনেতার পথ আটকানো হয়। আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছিল পুলিশি ব্যারিকেড। বাধার মুখে পড়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় শুভেন্দুবাবুকে।
বিরোধী দলনেতাকে উদ্দেশ করে এক পুলিশ অফিসারকে বলতে শোনা যায়, “সম্মান দিয়ে কথা বলুন।”এরপরই উত্তেজনার পারদ আরও চড়তে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। পুলিশের তরফে সাফ জানানো হয়, “ বিনা অনুমতিতে এভাবে প্রবেশ করা যায় না।” বাধার মুখে পড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা য়ায় বিজেপি বিধায়কদের।
শুভেন্দুবাবু অভিযোগ করেন উত্তরবঙ্গ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি সেই ব্যবস্থা দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু পুলিশের বাধায় আটকে গিয়েছেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘‘কী ভাষা দেখুন! বলছে, বিধায়কদের ঢুকতে দেব না। মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে বিয়েবাড়িতে এসেছিলেন। ছবি তুলতে এসেছিলেন। সচিবালয় কেমন চলছে, দেখতে এসেছিলাম। দেখলাম, মহিলা পুলিশকে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। আমরা তাঁদের মায়ের চোখে দেখি। তাঁদের সঙ্গে যাতে ধাক্কাধাক্কি হয়, সে জন্য তাঁদের লাইন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গের বিচ্ছিন্নতার মনোভাব দূর করতে সেখানে প্রশাসনিক ভবন তৈরি করেছিলেন। তার নাম দিয়েছিলেন উত্তরকন্যা।
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দুবাবু। সেখানেই তিনি বলেন, “একুশের ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে এসে বলেছিলেন, আপনাদের আর কলকাতায় যেতে হবে না। এখানে সব কাজ করে দিচ্ছি। আমরা দেখতে চাই, সেখানে আদৌ কোনও কাজ হয় কিনা।”
এরপরই শুভেন্দুবাবু ঘোষণা করেন, উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের নিয়ে উত্তরকন্যা অভিযানে যাবেন। কিছুটা পথ যাওয়ার পরেই অবশ্য পুলিশের বাধা মুখে পড়েন। বাধার মুখে পড়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “সকলে নয়, আমাদের ২ জন বিধায়ক ভেতরে যাবেন। তাঁরা দেখে আসতে চান, উত্তরকন্যায় কী কাজ হয়।”



















