আগরতলা, ১১ নভেম্বর : রাত পোহালেই শ্যামা মায়ের আরাধনা। এই আরাধনা কে সামনে রেখে ধর্মনগরের বিভিন্ন ক্লাব গুলি শেষ মুহূর্তের তুলির টান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের আবর্তে হিমেল হাওয়ায় শ্যামা পূজার এই আয়োজন ধর্মনগর বাসি তথা ত্রিপুরা রাজ্যের বাসীদের মনে আলাদা একটা দোলা দিয়ে যায়। সারা রাজ্যের মধ্যে উত্তর জেলা সদর ধর্মনগরের শ্যামা মায়ের আরাধনা একটা বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছে ইতিমধ্যে। এই আরাধনা একদিন দুদিন নয় চলতে থাকে চার পাঁচ দিন ধরে।
সারা রাজ্য তথা পার্শ্ববর্তী আসাম রাজ্যের বরাক ভ্যালি থেকে হাজার হাজার লোক ধর্মনগরে শ্যামা মায়ের আরাধনা দেখতে আসে। মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে পুরো পরিষদ সবাই নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যাতে শান্তি প্রিয় মানুষের শান্তি বিঘ্নিত না হয় ঐক্যের উৎসবে। যে ক্লাবগুলি বিশেষ খ্যাতিসহকারে ধর্মনগরে দীর্ঘদিন ধরে শ্যামা মায়ের পূজায় ব্রতী হয়েছে তাদের প্রস্তুতি কে কেমন করেছে তাই কিছুটা তুলে ধরা হচ্ছে। ধর্মনগরের নয়াপাড়া তে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আমরা সবাই। এবার তাদের ৩১ বছরের নিবেদন। বাজেট রয়েছে ১৭ লক্ষ টাকা।
পূজার থিম রয়েছে গাছ লাগান প্রাণ বাঁচান। সম্পূর্ণ বিষয় ই এদের স্থানীয় শিল্পীদের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। অপর শহরের ঠিক মাঝখানে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির নাম হচ্ছে ওয়াই এম এ সি। এবার তাদের ৪১ তম নিবেদন। এদের পূজা মন্ডপ বানাতে এবং এই কয়েকদিনের মানুষের সেবায় বাজেট রয়েছে ১৭ লক্ষ টাকা। তারা ভার্টিকাল সিটি এর আদলে তাদের পূজা মন্ডপ তৈরি করছে। শহরের উত্তর প্রান্তে রয়েছে বিশেষ ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এরিয়ান্স ক্লাব। প্রতিবার তারা সাধারণ মানুষের জন্য কিছু একটা নতুনত্ব প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যায়। এবার তাদের পূজার মূল আকর্ষণ হচ্ছে মালয়েশিয়ার টুইন টাওয়ার। তাদের বাজেট ৩০ লক্ষ টাকার।
পূজা মন্ডপটি তৈরি করছে নবদ্বীপের শিল্পী কোমল সাধক। প্রতিমাতে রয়েছে বিশেষ বিশেষত্ব। কুমারটুলির শিল্পী এ প্রতিমা তৈরি করছেন এই প্রতিমার বিশেষত্ব কি এখনই ক্লাব কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। ১২ নভেম্বর রাত্রি ৯ টায় অধ্যক্ষের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়েই পূজা মন্ডপের উন্মোচন করা হবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য। নেশা মুক্ত ত্রিপুরা করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি তারা পালন করেছে। তাছাড়া ও বস্ত্র দান , অংকন প্রতিযোগিতা এবং রক্তদানের মত মহৎ দান এদের পূজার অঙ্গ হিসেবে রয়েছে। অন্যান্য বছর যেমন করে জনসমুদ্র বসে যায় তাদের পূজা প্রাঙ্গণে এবার একান্ন বছর বয়সে তাই পুনরায় প্রদর্শন করতে বদ্ধপরিকর ক্লাব কর্মকর্তারা। ধর্মনগরের দীননাথ নারায়নী বিদ্যামন্দিরের মাঠে আরেকটি ঐতিহ্যবাহী পূজা হচ্ছে অ্যাটলেটিক ক্লাব। এই পূজার এবার নিয়ে ৬১ বছর পূর্তি অর্থাৎ ৬২ তম পূজা। তাদের পূজার মূল আকর্ষণ হচ্ছে বাসের ঘরে মা। বাজেট রয়েছে ১৫লক্ষ টাকা। এই পূজা মন্ডপে ধর্মনগরে যেসব উন্নয়ন হয়েছে সেসব উন্নয়নের মডেল বানিয়ে প্রদর্শন করা হবে। পূজা মন্ডপ থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা প্রতিমা সবকিছুই স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা নির্মিত হচ্ছে। ধর্মনগর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে রেলওয়ে ইয়ংম্যান অ্যাথলেটি ক্লাব। তাদের এবার ৩১ তম নিবেদন। পূজার থিম রয়েছে মাটির ঘরে মা।
১২ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটায় তাদের পূজা মন্ডপ উদ্বোধন করবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন তাছাড়া একই সাথে তাদের বাৎসরিক ম্যাগাজিনের উদ্বোধন করা হবে। তারা পূজা করে মানুষের জন্য, মানুষকে কেমন করে আনন্দ দেওয়া যায় ,মানুষের সেবায় কেমন করে ব্রতী হওয়া যায়, তাই হচ্ছে তাদের পূজার মুখ্য উদ্দেশ্য। তাছাড়াও রাজবাড়ীতে অপর ঐতিহ্যবাহী ক্লাব নবযুগ সংঘ এবং আলগাপুরের নেতাজি ক্লাব তাদের শৈল্পিক নিদর্শন এর মাধ্যমে মানুষকে টানতে প্রতিবার সমর্থ হয়। এবার ও শ্যামা মায়ের পূজা কে সাঙ্গ করে এই ক্লাবগুলোর পাশাপাশি ধর্মনগরের আনাচে-কানাচে এমনকি শহরতলীর কামেশ্বরের দেশবন্ধু ক্লাব শহরের ক্লাবগুলোর থেকে কোন অংশে পিছিয়ে নেই শ্যামা পূজার আয়োজন।



















