নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ নভেম্বর৷৷ সারা দেশের মতো ত্রিপুরা রাজ্যেও গবাদি পশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ তাই প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের পক্ষ থেকে টিকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে৷শুক্রবার মহাকরণে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এ বিষয়ে জানান প্রধান সচিব৷
২০১৯ সালে ১১ সেপ্ঢেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল এনিমেল ডিজিস কন্ট্রোল প্রোগ্রামের সূচনা হয়৷ এই কর্মসূচি রূপায়ণে রাজ্য সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস নিয়েছে৷ মূলত গবাদি পশুর ফুট এন্ড মাউথ এবং ব্রুসেলোসিস নামক ২০২৫ সালের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ও ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মূলকরণে জন্য এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে৷ গবাদি পশু ফুট এন্ড মাউথ রুটি অত্যন্ত সংক্রমিত এবং ভাইরাস জনিত রোগ৷ এই রোগের লক্ষণ উচ্চ তাপমাত্রা মুখে ও ফুরায় ফুসকা করা এবং মুখ দিয়ে লালা নির্গত হওয়া৷ এ রোগ বিশেষ করে গাভী এবং বলদের হয়ে থাকে৷ এর ফলে দেশে প্রতি বছর ৫৬ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়৷ এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ব্যবস্থা হচ্ছে টিকাকরণ৷ প্রতি ছয় মাস পর পর গবাদি পশুর টিকাকরণ করাতে পারলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব৷ আরো বলেন রাজ্যে প্রথম পর্যায়ে এ রোগের টিকাকরণ শুরু হয়েছে ২০২০ সালের সেপ্ঢেম্বর মাস থেকে৷ এই পর্যায়ে শুধুমাত্র গরু ও মহিষের জন্য টিকা করা হয়েছে৷ সর্বমোট ৬,৩২,৬২৩টি টিকা করানো হয়েছে পরবর্তী সময় ছাগল ভেড়া ও শুকর এই টিকার আওতায় আনা হয়েছে৷ রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৩,২২,৭১০ টি গবাদি পশুর টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি৷ অপরদিকে ব্রুসেলোসিস একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ৷ বিশেষত গর্ভবতী গাভী এ রোগে আক্রান্ত হয়৷ এছাড়া প্রজননের জন্য ব্যবহৃত সার এই রোগে আক্রান্ত হয়৷ এই রোগ সংক্রমণের ফলে বছরে ১৮ থেকে ২০ কোটি খাবার উৎপাদন ব্যর্থ হয় এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়৷ বিশেষ করে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে গর্ভকালীন সময়ের শেষ দিকে গর্ভপাত হওয়া বাছুর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে৷ তাই এইরূপ নির্মূল করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি৷ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের বিশেষ সচিব শশী কুমার৷

প্রাণী সম্পদ রক্ষায় টিকাকরণের উদ্যোগ নিল দপ্তর
Tags:

















