নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ নভেম্বর৷৷ রাজ্যে ডেঙ্গ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়৷ রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় ডেঙ্গর প্রকোপ দেখা দিলেও রাজ্যবাসীকে উদ্বিগ্ণ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা রাধা দেববর্মা৷ আজ সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় ডেঙ্গতে আক্রান্ত ২৫৫ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে৷ রাজ্যে ডেঙ্গ রোগ সনাক্তকরণের কিট, প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে৷ এই রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে জনগণকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে৷
সাংবাদিক সম্মেলনে স্টেট নোডাল অফিসার ডা. দীপ দেববর্মা জানান, এবছর ১০ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত ২৫৫ জন ডেঙ্গ আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে৷ এরমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই রাবার বাগানে শ্রমিকের কাজ করেন৷ তিনি জানান, বর্তমান নভেম্বর মাসেই ১০ তারিখ পর্যন্ত পাঁচটি জেলায় ১৬১ জন ডেঙ্গ আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে৷ এরমধ্যে গোমতী জেলায় ৭৬ জন, সিপাহীজলা জেলায় ২৭ জন, সিপাহীজলা এবং উত্তর জেলায় ১ জন করে, ঊনকোটি জেলায় ৫৬ জন৷ তিনি জানান, বর্তমানে ডেঙ্গ সনাক্তকরণে কিট ব্যবহার করা হচ্ছে৷ তাই দ্রত রোগ সনাক্ত হচ্ছে৷ এই কিট এই বছরই প্রথম বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ব্যবহার করা হচ্ছে৷
তিনি জানান, ডেঙ্গ বাহিত এডিস মশা দিনে কামড়ায়৷ তাই মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ ফগ মেশিন দিয়ে ফগিং করা হয়েছে৷ জনগণকে বলা হয়েছে কাজের সময় ফুল প্যান্ট, ফুল শার্ট পড়ে কাজ করতে৷ বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্য শিবির করা হচ্ছে৷ জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে৷ এর পাশাপাশি পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷ তিনি জানান, জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে ডেঙ্গির লক্ষণ থাকলেই তারা যেন রক্ত পরীক্ষা করান৷
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. তপন মজমদার জানান, ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে জরের সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভুত হবে৷ তাই জর হলেই নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে৷ চিকিৎসায় ডেঙ্গ ভাল হয়ে যায়৷ উদ্বিঘ হওয়ার কোন কারণ নেই৷ ডেঙ্গ রোগ প্রতিরোধ করাই প্রধান কাজ৷ তাই এ ব্যাপারে সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে৷ সাংবাদিক সম্মেলনে মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শ্যামল রায়ও এ বিষয়ে আলোচনা করেন৷


















