Masses in the fifth : ভিলেন বৃষ্টি উধাও, পঞ্চমীতেই জনঢল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ অক্টোবর৷৷ পঞ্চমীর রাতেই রাজধানী আগরতলা শহরের বিভিন্ন পুজা প্যান্ডেলে দর্শনার্থীদের ভীড় লক্ষ করা গিয়েছে৷ রাজপথে রীতিমতো জনঢল নামে৷ গত কদিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে৷ আজ রবিবার অবশ্য বৃষ্টি না হওয়ায় সন্ধ্যাতেই রাজধানী আগরতলা শহরের বিভিন্ন শপিং মলে ভীড় দেখা গিয়েছে৷ মূলত যারা কেনাকাটা করতে এসেছেন শহরে তারা কেনাকাটা সেরে অনেকেই মন্ডপে ঘুরে গিয়েছেন৷


শহরের একসময়ে বিগ বাজেটে যেসব প্যান্ডেল গড়া হত সেগুলিতে বড় মাপের প্যান্ডেল না থাকলেও আলোকসজ্জার খামতি ছিল না৷ মোটের উপর ভিলেন বৃষ্টি উধাও হয়ে যাওয়াতে পঞ্চমীতেই জনঢল নেমেেেছ রাজধানীতে৷ এদিন রাজধানী আগরতলা শহরে ক্রেতা বিক্রেতার ভীড় নজরে এসেছে৷ শেষবেলায় জমে উঠেছে বিকিকিনি৷ মহকুমা ও জেলা শহরগুলিতেও বিকিকিনি জমে উঠেছে৷ একই সাথে প্রশাসনের তরফ থেকেও কঠোর নজরদারী রাখা হচ্ছে৷
এদিকে, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে কোভিড বিধি মেনে শারদীয় উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে খোয়াই মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মহকুমা শাসকের পৌরহিত্যে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়৷ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে খোয়াই মহকুমা শাসক অসিত কুমার দাস আসন্ন দুর্গাপূজা সরকারের দেওয়া বিধি গুলি তুলে ধরেন৷ বিধি গুলি মেনে অনুযায়ী প্রত্যেকটি ক্লাব ও সংস্থাকে পূজা অনুমতি নিয়ে শারদ উৎসব সম্পন্ন করার জন্য৷


খোয়াই মহকুমা শাসক অসিত কুমার দাস সাংবাদিক সম্মেলন করেন৷ খোয়াই জেলা শাসকের নির্দেশে জেলার দুই মহকুমা শাসকে সাংবাদিক সম্মেলন করার নির্দেশ দেন৷ সাংবাদিক সম্মেলনে মহকুমা শাসক অসিত কুমার দাস জানান, রাজ্য রেভিনিউ দপ্তরের নির্দেশ অনুসারে গত ২৯শে সেপ্ঢেম্বর খোয়াই মহকুমার সমস্ত ক্লাব ও এনজিওদের নিয়ে স্থানীয় টাউন হলে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি নিয়ম নীতি নির্দেশিকা নিয়ে৷ বৈঠকের পরে খোয়াই জেলা শাসকের নির্দেশ অনুসারে সংবাদ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে জনগণকে সরকারি নির্দেশিকাগুলি অবহিত করার জন্য৷ আরও যে সব নীতিনির্দেশ জারি করা হয়েছে, সেগুলি হল- ক্লাব, সামাজিক সংস্থা ও বাড়িঘরের পুজো গুলি সরকারের অনুমতি নিয়ে করতে হবে৷পূজা মণ্ডপগুলির সব দিক খোলা রাখতে হবে৷ যাতে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলা যায় তার জন্য মণ্ডপের ভিতরে যথেষ্ট জায়গা রাখতে হবে৷ মণ্ডপে ঢোকার পথ ও বেরোনোর পথ আলাদা করতে হবে৷প্রতিটি মণ্ডপের প্রবেশফটক স্যানিটাইজার ও মাস্ক রাখতে হবে৷ যাঁরা মাস্ক পরবেন তাঁদেরই শুধু মণ্ডপে প্রবেশাধিকার থাকবে৷

কোনো মেলা বা বাজার বসানো যাবে না৷পুজোর সঙ্গে জড়িত পূজারি-সহ সকলকে পঞ্চমীর দিন কোভিড ১৯ পরীক্ষা করাতে হবে৷ এই পরীক্ষা দশমীর পর আবার হবে৷ প্রতিদিন মণ্ডপ গুলি সেনিটাইজার করতে হবে৷কোনো সমাবেশ করা চলবে না৷পূজার আগে ও পরে মণ্ডপ স্যানিটাইজ করতে হবে৷কোনো সাংসৃকতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না৷ মণ্ডপগুলোতে একসাথে ৫ থেকে ১০ জন সামাজিক দূরত্বব বজায় রেখে প্রতিমা দর্শন করতে হবে৷ যদি সম্ভব হয় পূজা উদ্যোক্তারা দর্শনার্থীদের থার্মাল স্ক্রীনিং করার জন্য৷ আর যাদের মধ্যে কোভিড সংক্রান্ত সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে তাদেরকে আইডেন্টিফাই করে আলাদা রেখে মেডিকেল টিমকে খবর দেওয়ার জন্য৷

পূজা কমিটি পূজার দিন এবং পরে কোন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে না৷পূজা কমিটিগুলি প্যান্ডেলগুলিতে এমন কোন অযৌক্তিক আলোর ব্যবস্থা করবে না যা দর্শকদের অত্যধিক সমাবেশকে আকৃষ্ট করতে পারে৷ যতদূর সম্ভব, ক্লাব/পূজা কমিটি পরিদর্শনের সুবিধার্থে পূজা মন্ডপ/প্যান্ডেল থেকে দূরে বড় পর্দা/জ্রক্কঙ্গ স্ক্রিনের ব্যবস্থা করতে পারে৷ক্লাব/পূজা কমিটি সাধারণ জনসাধারণের দ্বারা পূজা দেখার জন্য স্থানীয় টিভি চ্যানেল ব্যবহার করতে পারে৷ ক্লাব/পূজা কমিটির মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং আয়োজকদের পুরস্কার বিতরণ এড়ানো যেতে পারে৷ পুরোহিতরা প্রয়োজনে মাইক ব্যবহার করতে পারেন৷ অঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ জন একসাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অঞ্জলি প্রদান করতে হবে৷বিসর্জনের দিন প্রতিটি জেলার ডিসি পূজা কমিটিগুলির উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে৷