নয়াদিল্লি, ২ মার্চ (হি.স.) : ফের পিছিয়ে গেল নির্ভায়ার দোষীদের ফাঁসি | নির্ভয়াকাণ্ডে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত পবন গুপ্তার আবেদনের ভিত্তিতে সোমবার ৪ আসামীর ফাঁসি স্থগিত করে দিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট।ফলে মঙ্গলবারও নির্ভায়ার দোষীদের ফাঁসি হচ্ছে না | সাজাপ্রাপ্ত পবন গুপ্তার প্রাণভিক্ষার আর্জি আবেদন এখন রাষ্ট্রপতির বিবেচনাধীন। এই অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফাঁসি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিল আদালত।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পবন গুপ্তার ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে য়ায়। তারপরেই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে পবন গুপ্তা। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের কারণ দেখিয়ে পাতিয়ালা হাউস কোর্টে ফাঁসি কার্যকর না করার আবেদন জানায় পবন। তার সেই আবেদনের ভিত্তিতে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি রাষ্ট্রপতি। সেকথা বিবেচনা করে ফাঁসি কার্যকর করার আদেশের ওপরে স্থগিতাদেশ দিলেন অতিরিক্ত বিচারক ধর্মেন্দ্র রানা।
এদিন পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পবন গুপ্তার আইনজীবী আবেদন করেন, রাষ্ট্রপতির কাছে যেহেতু পবনের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন এখনও বিচারাধীন তাই ফাঁসি কার্যকর করা য়ায় না। পবনের আবেদনের শুনানি করতে গিয়ে তার আইনজীবীকে তীব্র ভাষায় ধমক দেন অতিরিক্ত বিচারক ধর্মেন্দ্র রানা। বিচারক পবনের আইনজীবীকে বলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলা করছেন আপনি। সাবধান হওয়া উচিত আপনার।’ ওই মন্তব্যের পর পবনের আবেদনে রায়দান স্থগিত রাখেন বিচারপতি।
এদিন ফাঁসিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি বলেন, ‘আসামির প্রাণভিক্ষার আর্জি নিয়ে যখন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, সেই অবস্থায় ফাঁসি কার্যকর করা যায় না। তাই ৩ মার্চ সকাল ৬টায় যে ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হল।’
এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আসামীকে ফাঁসির জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়ার কথা। তবে তার আগেই পাতিয়ালা হাউস কোর্টের নির্দেশে আপাতত স্থগিত হয়ে গেল নির্ভয়াকাণ্ডে ৪ সাজাপ্রাপ্তের ফাঁসি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে রাজধানীর বুকে চলন্ত বাসে ২৩ বছরের নির্ভয়াকে ধর্ষণ ও খুনের অপরাধে সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে মুকেশ সিংহ, বিনয় শর্মা, অক্ষয় কুমার ও পবন গুপ্তাকে। গত ২২ জানুয়ারি ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু দণ্ডিতরা একে একে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাতে শুরু করলে পরে তা পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি করা হয়। শেষ মেশ নানা আইনি জটিলতায় আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয় ফাঁসির দিন ঠিক হয় ৩ মার্চ একসঙ্গে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বার তা-ও পিছিয়ে গেল।



















