
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ আগস্ট৷৷ শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর জ্যাকশন গেইট সংলগ্ণ এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বেসরকারি ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বোধিষত্ব দাসের দেহ উদ্ধার হয়৷ গভীর রাতে দমকল বাহিনীর কর্মীরা আশঙ্কা জনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ এই ঘটনার পর রাতের অন্ধকারে আগরতলা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ণ দেখা দেয় জনমনে৷
তারপরই পুলিশের কুম্ভ নিদ্রা ভঙ্গ হয়৷ ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে এই হত্যার চেষ্টার ঘটনার সাথে জড়িত শহরের কালিকা জুয়েলারির মালিকের ছোট ছেলে সুমিত চৌধুরী ও সোয়েব মিঞার নাম৷ কাল বিলম্ব না করে পুলিশ দুইজনকে আটক করে৷ তাদেরকে পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে এই ঘটনার সাথে যুক্ত রয়েছে ট্রাফিক ইন্সপেক্টার সুকান্ত বিশ্বাস৷ যথারীতি মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ৷
তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে এই ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে সুমিত বনিক নামে আরও একজন৷ তাকেও পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে৷ সদর এসডিপিঁও ধ্রুব নাথ জানান এখনো পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার দায়ে মোট ৪ জনকে আটক করা হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ৩০৭,৩২৬ ও ৩৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে৷ তবে এই হত্যার চেষ্টার ঘটনার পিছনে কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই বিষয়ে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মুখ খুলতে নারাজ৷তবে শহরের বুকে বেসরকারি ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে হত্যার চেষ্টার ঘটনার দায়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টার সুকান্ত বিশ্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়৷
বাম আমলে নিজেকে লাল বাড়ির ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে আগরতলা শহরে নিজের ছড়ি ঘুরিয়েছিলেন এই গুণধর ট্রাফিক ইন্সপেক্টার৷ সরকার পরিবর্তনের পরও এই ট্রাফিক ইন্সপেক্টারের ছড়ি ঘুরানো তেমন একটা কমেনি৷ কারন সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে গুণধর সুকান্ত বিশ্বাস রাতারাতি নিজের খোলস পাল্টে ফেলেন বলে খবর৷ বাম আমল থেকেও সুকান্ত বিশ্বাসের দাপট কয়েকগুণ বেড়ে যায় নয়া সরকার ক্ষমতায় আসার পর৷ কারন অর্থ ও ক্ষমতালোভী সুকান্ত বিশ্বাস নয়া সরকারের নেতা মন্ত্রীদের পছন্দের পাত্র হয়ে উঠার জন্য কোন ত্রুটি রাখেন নি৷ কিন্তু কথায় আছে রাখে হরি মারে কে৷ গুণধর সুকান্ত বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও তাই হল৷ আগরতলা শহরে থেকে ছড়ি ঘুরিয়ে নিজের ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই ছড়ি হয়ে যান৷
আগরতলা শহর থেকে বদলি হতে হয় ধর্মনগরে৷ কিন্তু ধর্মনগরে থেকেও গুণধর ট্রাফিক ইন্সপেক্টার সুকান্ত বিশ্বাস আগরতলায় নিজের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন৷ কালক্রমে গুণধর সুকান্ত কোটি পতি হওয়ার স্বপ্ণ দেখতে শুরু করে বলে খবর৷ আরও খবর এই গুণধর ট্রাফিক ইন্সপেক্টার সুকান্ত বিশ্বাস নেশারকারবারের সাথে জরিয়ে গিয়েছিল৷ আর সেই নেশারকারবারের আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বুকে বেসরকারি ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে হত্যার চেষ্টার সাথে জরিয়ে যায় গুণধর সুকান্ত৷ যদিও বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ৷ তবে গুণধর ট্রাফিক ইন্সপেক্টার সুকান্ত বিশ্বাসের কর্মকাণ্ড রাজ্যের ট্রাফিক পুলিশের নাম কালিমালিপ্ত করেছে তা বলাই বাহুল্য৷ তবে যতটুকু খবর একাংশ পুলিশ কর্মী সুকান্ত বিশ্বাসকে বাঁচানোর জন্য প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে৷ বুধবার ধৃত সুকান্ত বিশ্বাস ও সুমিত বনিককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে৷ তবে পুলিশ এখনো তদন্ত জারি রেখেছে৷ এই ঘটনায় আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার হতে পারে বলে খবর৷



















