স্নাতকের ত্রুটিপূর্ণ ফলাফলে ছাত্র বিক্ষোভ, দিনভর উত্তাল ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ মার্চ৷৷ ফের কলঙ্কিত ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়৷ ভুলে ভরা ফল প্রকাশের দরুণ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর দফায় দফায় ছাত্র বিক্ষোভ সংগঠিত হয়েছে৷ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত টিডিপি জেনারেল এবং অনার্সের প্রথম, তৃতীয় এবং পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়৷ কিন্তু প্রকাশিত ফল ভুলে ভরা বলে অভিযোগ উঠেছে৷ সোমবার ফল প্রকাশের পর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়৷ মঙ্গলবার ছাত্রছাত্রীরা সকালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে এবিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রকাশিত ফলের সমস্যাগুলি নিয়ে কোন সুদত্তর পাননি ছাত্রছাত্রীরা৷ তাতেই, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷
জানা গেছে, ২০১৬ সালের টিডিপি জেনারেল এবং অনার্সের প্রথম সেমিস্টারে মোট ২২ হাজার ৬৪১ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন৷ তাদের মধ্যে বিএ অনার্স কোর্সে ৬ হাজার ১৩৩ জন, বিএসসি অনার্স কোর্সে ১ হাজার ২১ জন এবং বি কম অনার্স কোর্সে ২৭৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন৷ জেনারেল কোর্সে বিএ পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৭৬ জন, বিএসসি পরীক্ষায় ৬৯১ জন এবং বি কম পরীক্ষায় ৭৪৯ জন পাশ করেছেন৷ টিডিপি জেনারেল ও অনার্স কোর্সে তৃতীয় সেমিস্টারে মোট ১৫ হাজার ৫০৬ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন৷ তাদের মধ্যে জেনারেল কোর্সে বি এ পরীক্ষায় ৮ হাজার ৩১৯ জন, বিএসসি পরীক্ষায় ৪৯৫ জন এবং বি কম পরীক্ষায় ৭১৯ জন পাশ করেছেন৷ অনার্স কোর্সে বি এ পরীক্ষায় ৩৭০ জন, বিএসসি পরীক্ষায় ৬৮৬ জন এবং বি কম পরীক্ষায় ১৭৫ জন পাশ করেছেন৷ সব মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ১২৪ জন পাশ করেছেন৷ এদিকে, টিডিপি জেনারেল এবং অনার্স কোর্সে পঞ্চম সেমিস্টারে ৮ হাজার ২৭৩ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন৷ তাদের মধ্যে অনার্স কোর্সের বি এ পরীক্ষায় ২ হাজার ৪৯৬ জন, বিএসসি পরীক্ষায় ৪৩৭ জন এবং বি কম পরীক্ষায় ৮৬ জন পাশ করেছেন৷ জেনারেল কোর্সের বি এ পরীক্ষায় ৪ হাজার ২০৬ জন, বিএসসি পরীক্ষায় ৩১৩ জন এবং বি কম পরীক্ষায় ৪৫২ জন পাশ করেছেন৷ সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৯৬০ জন পরীক্ষার্থী পাশ করেছেন৷ এদিকে, টিডিপি বি এ ডিসটেন্স কোর্সের প্রথম এবং তৃতীয় সেমিস্টারে পরীক্ষা দিয়েছিলেন ২ হাজার ৬৫৭ জন৷ তাদের মধ্যে পাশ করেছেন ১ হাজার ৯৮৩ জন৷ প্রথম সেমিস্টারে ১ হাজার ১৮৪ জন এবং তৃতীয় সেমিস্টারে ৭৯৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন৷
এবছর মোট পরীক্ষার্থীর ১৪ হাজার ৭৬১ জন পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি৷ ফলে, মঙ্গলবার তাদের অধিকাংশেরই দাবি, ভুল ফল প্রকাশিত হয়েছে৷ এদিকে, ৩৪ হাজার ৩১৬ জন এবছর পাশ করেছেন৷ তাদের মধ্যেও অধিকাংশের দাবি ভুল ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে৷ ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, কারোর কোন মার্কস উল্লেখ নেই, অথচ তাকে পাশ দেখানো হয়েছে৷ আবার কোন কোন পরীক্ষার্থীর যে মার্কস দেখানো হয়েছে তা ভুল বলে তারা দাবি করেছেন৷ জানা গেছে, অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীদের এসাইনমেন্ট নম্বর দেওয়া হয়নি৷ এদিন, ছাত্রছাত্রীরা এই সমস্ত কিছু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করতে গেলে তাদের সাথে কেউ দেখা করেননি বলে অভিযোগ৷ তাতে, ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ঘেরাও করে রাখা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেন ছাত্রছাত্রীরা৷ শেষে অবস্থা বেগতিক দেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের সাথে আলোচনায় সম্মত হন৷ জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ সমস্ত ভুল সংশোধনে এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন৷ ছাত্রছাত্রীরা তাতে রাজি হলেও একাংশের বক্তব্য, মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের এখন সমস্যার মুখে পড়তে হবে৷ সময়মত ভুল সংশোধন না হয়ে আসলে তাদের পক্ষে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হওয়া সম্ভব হবে না৷ স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফল প্রকাশকে ঘিরে যে অনিয়ম হয়েছে তাতে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত সংকটের মুখে পড়েছে বলেও অভিভাবকদের অভিমত৷