News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে আরএসএস পরিচালিত বিজেপি ঃ মানিক দে
Image

রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে আরএসএস পরিচালিত বিজেপি ঃ মানিক দে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি৷৷ সংখ্যালঘুদের উপর দমন পীড়নের মাধ্যমে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের গরিমা নষ্ট

শনিবার নজরুল কলাক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক জারি সারি উৎসবের উদ্বোধন করেন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মানিক দে৷ ছবি নিজস্ব৷

করতে এবং এক জাতি এক সংসৃকতি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে বিজেপি পরিচালিত এনডিএ সরকার উঠেপড়ে লেগেছে, তোপ দাগেন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মানিক দে৷ তাঁর বক্তব্য, দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনধারার উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে৷ বিজেপি এবং আরএসএস ঠিক করে দিতে চাইছে কে কি খাবে, কি পরিধান করবে৷ এই লক্ষণ ভয়ানক, মন্তব্য করেন তিনি৷ তাঁর দাবি, এরাজ্যে সব ধর্মের মানুষের সমানাধিকার রয়েছে৷ সাথে যোগ করেন, বামফ্রন্ট সরকার আছে বলেই এরাজ্যে সকল ধর্মের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে৷ শনিবার নজরুল কলাক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক জারি সারি উৎসবের উদ্বোধন করে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মানিক দে এইভাবেই বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন৷

এদিন তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার সকল জাতীর উন্নতিতে সমানভাবে সহায়তা করছে৷ কিন্তু, আরএসএস পরিচালিত বিজেপি রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে৷ তিনি আরো যোগ করেন, গোটা দেশেই বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে৷ তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশবাসীর মানসিক দিক দিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে এবং তাতে সংঘর্ষ এবং খুন গোটা দেশেই বেড়ে যাবে৷

তাঁর বক্তব্য, সম্প্রতি অসহিষ্ণুতার প্রবণতা গোটা দেশেই দেখা যাচ্ছে এবং ধর্মীয় সংঘাত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বেড়ে চলেছে৷ তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজেপি এবং আরএসএস সারা দেশেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দূর্বল করতে চাইছে৷ তাই তিনি সকল অংশের জনগণের কাছে আহ্বান জানান, জাতি-উপজাতি, হিন্দু-মুসলীম সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলুন৷

শনিবার নজরুল কলাক্ষেত্রে দু’দিন ব্যাপী রাজ্য ভিত্তিক জারি সারি উৎসব, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ স্মৃতি মেধা পুরস্কার, বেগম রোকেয়া স্বর্ণ পদক পুরস্কার, নির্বাচিত খ্যাতিমান খেলোয়াড় ও সাংসৃকতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত শুরু হয়েছে৷ চলবে আগামীকাল পর্যন্ত৷ আজ মূলতঃ গত বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু অংশের ছাত্রছাত্রী যারা ৬০ শতাংশ বা এর বেশী নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে এমন ২৩৪ জনকে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ স্মৃতি মেধা পুরস্কার এবং এ দুটি পরীক্ষায় যে দুজন সংখ্যালঘু অংশের মেয়ে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদেরকে বেগম রোকেয়া স্বর্ণ পদক পুরস্কারে পুরসৃকত করা হয়৷ প্রদীপ জ্বেলে এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সহিদ চৌধুরী৷

নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার চায় সকলের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সকলের সার্বিক উন্নয়ন৷ সংখ্যালঘু অংশের মানুষের উন্নয়নে রাজ্য সরকার ২৮ দফা গুচ্ছ প্রকল্প হাতে নিয়েছে৷ অনেক ছেলে মেয়ে রাজ্যের বাইরে বিদেশে পড়াশুনা করছে৷ এই পুরস্কার ছাত্র ছাত্রীদের মনে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে৷ তিনি বলেন, দেশে একমাত্র ত্রিপুরা রাজ্যেই ছেলে মে য়েরা কলেজ পর্যন্ত বিনা পয়সায় লেখাপড়ার সুযোগ পায়৷ বাজেটের ২১ শতাংশ টাকা শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হয়৷ তাই এর সদব্যবহার করতে হবে৷ সভাপতির ভাষণে সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী সহিদ চৌধুরী বলেন, অপসংসৃকতি আজ যুব মনকে যেভাবে বিপথে পরিচালিত করছে তা প্রতিহত করার জন্যেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে৷ এই উৎসবে প্রবীণদের দেখেই নতুনরা শিখবে, পুরস্কার পেয়ে উৎসাহিত হবে৷ তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া ছিলেন মুসলিম নারী সমাজের পথিকৃৎ৷ মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী৷ তাঁদের স্বপ্ণ ছিল সকলের সার্বিক উন্নয়ন৷ কিন্তু সারা দেশেই সংখ্যালঘু আজ নানা দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে৷ ব্যতিক্রম ত্রিপুরা রাজ্য৷ ২০০০ সাল থেকে তাদের উন্নয়নে এখানে গুচ্ছ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য চাই সকলের উন্নয়ন৷ একটি জাতি গোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়৷
বিশেষ অতিথির ভাষণে মুখ্যসচিব সঞ্জীব রঞ্জন বলেন, এই অনুষ্ঠান ছাত্রছাত্রীদের সামনে এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা দেবে৷ উৎসাহ দেবে দেশ বিদেশে উচ্চ শিক্ষা লাভের৷ বিশেষ অতিথির ভাষণে সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের সচিব সমরজিৎ ভৌমিক বলেন, রাজ্যে ১৫০০টি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম রয়েছে৷ তাদের উন্নয়নে বহু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে৷ স্বাগত ভাষণ দেন সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা দুলাল চন্দ্র দাস৷

অনুষ্ঠানে গত বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬০ শতাংশ বা এর উপর নাম্বার নিয়ে উত্তীণ মোট ২৩৪ জন ধর্মীয় সংখ্যালঘু অংশের ছাত্র-ছাত্রীকে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ পুরস্কারে অতিথিগণ পুরসৃকত করেন৷ প্রত্যেক মাধ্যমিক উত্তীর্ণদের দেওয়া হয় নগদ ২০০০ টাকা, শংসাপত্র ও বই৷ দ্বাদশ উত্তীর্ণদের দেওয়া হয় নগদ ৩০০০ টাকা, শংসাপত্র ও বই৷ বেগম রোকেয়া পুরস্কার পান মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রী সুচরিতা আক্তার৷ তাকে দেওয়া হয় স্বর্ণপদক, শংসাপত্র ও নগদ ১০ হাজার টাকা৷ আগামীকাল ২৬০ জন কৃতী খেলোয়াড়, সাংসৃকতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজ্য ভিত্তিক জারি-সারি উৎসবের বিজয়ীদের পুরসৃকত করা হয়৷ আজ রাজ্য ভিত্তি জারি-সারি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়৷ সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর এবং তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তর যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে৷

Releated Posts

তিপ্রাল্যান্ড এর মতো স্লোগান বাস্তবসম্মত নয়, উন্নয়নই বিজেপির অগ্রাধিকার: মন্ত্রী

আগরতলা, ৩ এপ্রিল: কিছু আঞ্চলিক দল তিপ্রাল্যান্ড, থানসা ইত্যাদি স্লোগান তুলছে, কিন্তু বাস্তবে এসব সম্ভব নয়। তারা শুধু…

ByByTaniya Chakraborty Apr 3, 2026

মুজফ্‌ফরপুরে খেসারি লাল যাদবের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, লাঠিচার্জ পুলিশের

পাটনা, ২ এপ্রিল(আইএএনএস): বিহারের মুজফ্‌ফরপুরে একটি পশু মেলায় ভোজপুরি গায়ক খেসারি লাল যাদব-এর অনুষ্ঠানের আগে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি…

ByByNews Desk Apr 2, 2026

চাওমিন খেয়ে অসুস্থ হয়েছে নবোদয়ের ছাত্রছাত্রীরা, জানালেন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ জানুয়ারি: চাওমিন খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল জহর নবোদয়ের ছাত্রছাত্রীরা। জানালেন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল। উল্লেখ্য, টাকারজলা…

ByByadmin Jan 29, 2025

তাঁকে এবং তাঁর বোনকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, অভিযোগ শেখ হাসিনার

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি (হি.স.): বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট যখন ছাত্র আন্দোলনের…

ByByadmin Jan 18, 2025

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top