নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারি৷৷ ভোট বিভাজন এড়াতে চাইছে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস৷ তাই বাম বিরোধী

রাজনৈতিক দলগুলি এক মঞ্চে আসুক সেটাও চাইছে তৃণমূল৷ এক্ষেত্রে বিজেপি এলেও আপত্তি নেই, এমনটাই মনে হল তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের বক্তব্যে৷ সরাসরি মহাজোটের ডাক না দিলেও রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সেই পথে হাঁটবে তৃণমূল, এমনটাই ইঙ্গিত মিলল৷ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেনের সাথে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেবের বৈঠকের খন্ডন করে সুদীপ বাবু বলেন, বিভাজনের লড়াই হলে সিপিএম ফায়দা লুটবে৷ তাই এমন কোন কাজ করব না যাতে সিপিএম সুযোগ নিতে পারে৷ সেক্ষেত্রে নিজেদের দলগত অবস্থান পরিবর্তনে বামবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কাছাকাছি এসে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারি সেই চেষ্টা চলছে৷ এদিন তৃণমূল বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন জানান, সৌজন্যে সাক্ষাতে তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি৷ কেউ আসতে চাইলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না৷ তাই বিজেপি সভাপতি সেদিন বাড়িতে গেলে চায়ের টেবিলে বসে রাজনীতির আলাপই হয়েছে৷ এদিকে, মহাজোট প্রসঙ্গে এদিন তৃণমূল কংগ্রেস ঝেড়ে কাশল না ঠিকই, তবে ধারণা করা যাচ্ছে সিপিএমকে উৎখাত করতে বিজেপির হাত ধরতে পারেন সুদীপবাবুরা৷
সুদীপবাবুর বক্তব্য, গণতন্ত্রে ভোটের হার কোন গুরুত্ব রাখে না৷ দ্বিতীয় স্থান দখল করা সেই অর্থে রাজনৈতিক ব্যর্থতা৷ তাই দ্বিতীয় স্থান দখল নয়, এখন লক্ষ্য শাসক দলকে পরাজিত করা৷ তাতে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ণ উঠেছে, নীতির প্রশ্ণে যেখানে আলাদা মত পোষণ করে রাজনৈতিক দলগুলি সেখানে একমঞ্চে আসা কতটা সম্ভব৷ এবিষয়ে সুদীপবাবুর বক্তব্য, নীতি ও আদর্শে দুটি দল দুই মেরুতে, কিন্তু তাতে সার্থকতা কোথায়৷ ভোট বিভাজনে ফায়দা লুঠছে শাসক দল৷ তাই এখন তাগিদ দেখা দিয়েছে নিজেদের দলগত অবস্থান পরিবর্তনের৷ কারণ, তিনি মনে করেন গণতন্ত্রে ভোটের হার কোন ভূমিকা রাখে না৷ তাই আলোচনা হয়েছে, এখন নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান দখল করা দলের কাছে লক্ষ্য থাকবে না৷
কিন্তু দলীয় নীতি বাদ দিয়ে বাম বিরোধী রাজনৈতিক দল কাছাকাছি কিভাবে আসবে সেটা স্পষ্ট হয়নি৷ সুদীপবাবু বলেন, আগামীদিনে এবিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে৷ কারণ, বিভাজনের লড়াই যখনই হচ্ছে তখনই শাসকদল ফায়দা লুটছে৷ তাই এখন প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে এমন কোন কাজ যেন না হয়, যাতে সিপিএম সুযোগ নিতে পারে৷ সুদীপবাবু বলেন, আমরা চাইছি কাছাকাছি এসে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার৷ নীতিগত ভাবে অসুবিধা হতেই পারে৷ কিন্তু রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই৷ তিনি জোর গলায় দাবি করেন রাজনীতিতে অস্পৃশ্য বলেও কিছু নেই৷ তিনি বাম বিরোধী মঞ্চের দিকে বার্তা দেন, যারা সত্যিকারের পরিবর্তন চান সেটা কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা হবে৷ তিনি দাবি করেন, কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো ছবিটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে৷
আর তাতেই প্রশ্ণ উঠেছে জাতীয় রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে প্রদেশ তৃণমূলের এই সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ডের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে৷ এবিষয়ে তাঁর সাফ কথা, সমস্ত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আসবই৷ যে কোন মূল্যে পরিবর্তন আনতেই হবে৷
পাশাপাশি এদিন তিনি বিজেপিকেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি৷ কটাক্ষের সুরে বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সাথে যোগাযোগ শুরু করে বিজেপি প্রমাণ করল তাঁরাও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি৷

