মাননীয় মন্ত্রী যদি অশিক্ষিত ও অজ্ঞ হইয়া থাকেন তাহা হইলে রাজ্য বা দেশের কপালে দুর্ভোগ নামিয়া আসে৷ আমাদের এই বৃহত্তর গণতন্ত্রের দেশে মাননীয় মন্ত্রীদের দায়িত্বপালন ও কর্তব্যকর্ম করার বিষয়ে নানা প্রশ্ণ উঠিয়া থাকে৷ আজ দেশের সামনে সব চাইতে বড় প্রশ্ণ হিসাবে উঠিয়া আসিয়াছে দায়িত্বশীল সরকার ও মন্ত্রিসভা কতখানি কাজ করিতে পারে৷ সেখানে, সততা ও স্বচ্ছতার সাথে কি আদৌ চলিতে পারে? কেন্দ্রে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আনাগোনা বাড়িয়া গিয়াছে৷ ইহা সুলক্ষণ৷ রাজ্যবাসী ইহাতে যথেষ্ট প্রীত হইবারই কথা৷ কেন্দ্রের বহু প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়৷ অন্তত, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এইসব বিষয়ে খোঁজ খবর করিলে কাজে গতি আসিতে পারে, তৎপরতাও বাড়িবার কথা৷ কিন্তু, এই মন্ত্রীরা যদি রাজ্যে আসিয়া আমলাদের দেওয়া ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করিয়া রাজ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তাহা হইলে অবস্থা কি দাঁড়াইবে? এই প্রশ্ণই আজ জনমনে দেখা দিয়াছে৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা রাজ্য সফর করিয়া ভাল কাজে গতি বাড়াইবার বিষয়ে পরামর্শ দিবেন ইহাই তো কাম্য৷ সাধারণ মানুষ ইহাই চাহিতেছেন যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা রাজ্য সফর করিয়া নিরপেক্ষ ভাবে বাস্তব অবস্থা নীরিক্ষণ করিয়া নিজেদের মতামত ব্যক্ত করিবেন রাজ্যের সামগ্রিক স্বার্থে৷ কিন্তু, বাস্তব অবস্থা ভিন্নতর৷
সম্প্রতি, কেন্দ্রের জলসম্পদ রাষ্ট্রমন্ত্রী রামকৃপাল যাদব রাজ্য সফরে আসিয়া সাংবাদিক সম্মেলন করিয়া জানাইয়া দিয়াছেন যে, রাজ্যে সব গ্রামে পানীয় জল পৌঁছিয়া গিয়াছে৷ কিন্তু, বাস্তবের সঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্যের অমিল বিষয়ে সাংবাদিকরা যখন চাপিয়া ধরিয়াছেন তখন তিনি আমতা আমতা করিয়া পাশ কাটাইতে চেষ্টা করিয়াছেন৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবী অবাস্তব ও মিথ্যা তাহা তো আর বলিবার অপেক্ষা রাখে না৷ প্রশ্ণের উত্তরে কেন্দ্রের মন্ত্রী আরও হাস্যকর উত্তর দিয়াছেন যে, আইন শৃংখলার কারণে রাজ্যের সর্বত্র পানীয় জল পৌঁছানো সম্ভব হয় না৷ কিছুদিন আগে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীই যেখানে স্বীকার করিয়াছেন যে, রাজ্যের একশ শতাংশ এলাকায় পানীয় জল পৌঁছানো সম্ভব হয় নাই৷ সেখানে রাজ্যের সরকারী আমলারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে মিথ্য ও অবাস্তব রিপোর্ট পেশ করিলেন কিভাবে? আসলে করিৎকর্মা মন্ত্রী না হইলে আমলাদের হাতে তামাক খাইয়া চলেন৷ রামকৃপালের পক্ষে সম্ভবত তাই হইয়াছে৷ রাজ্য সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত না থাকিলে আমলারা কি মিথ্যা তথ্য পেশ করিতে পারেন?
এইসব ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ণ উঠিতে পারে যে, রাজ্য সরকার যেসব পুরস্কার পাইয়াছে সেগুলি কি এইরকম অবাস্তব ও মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করিয়া? রামকৃপালের এই কীর্তি সেই প্রশ্ণটিকেই সামনে আনিয়া দিয়াছে৷ কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়নের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা বিভিন্ন পুরস্কার আনিয়াছে৷ ইহাতে রাজ্যের মানুষ গর্বিত হইয়াছে৷ ত্রিপুরার মুখ উজ্জল হইয়াছে৷ এই রাজ্যের ভবিষ্যতও উজ্জলতর হইবার অপেক্ষায়৷ ব্রডগেজ রেল চালু হইতে আর বেশী দেরী নাই৷ চট্টগ্রাম বন্দর খুলিয়া যাইবে শীঘ্রই৷ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে হইবে ত্রিপুরা৷ এতসব প্রত্যাশার মাঝে স্মার্ট সিটিতে ত্রিপুরার নাম না থাকা বড়ই দূর্ভাগ্যের৷ তবু, প্রত্যন্ত রাজ্য ত্রিপুরা আশায় বুক বাঁধিয়াছে৷ কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়া গেলে ত্রিপুরা আগামীদিনে উজ্জল নজীর রাখিতে পারিবে বলিয়া বিশ্বাস করা যাইতে পারে৷ কিন্তু, প্রশ্ণ এইখানেই যে সততা ও স্বচ্ছতার৷ সারা দেশে আজ ইহারই বড় সংকট৷ কেন্দ্রে সরকার পরিবর্তন হইলেও সেই সততা স্বচ্ছতার সংকট রহিয়াই গিয়াছে৷ এখন আরও প্রবল ভাবে দুর্নীতির হাত প্রসারিত হইয়াছে৷ রাজনীতিতে, প্রশাসনে দুবৃত্তায়ন আরও দূর্বার হইয়াছে৷ সুতরাং ‘আচ্ছে দিন আয়েগার’ শ্লোগান এখন যেন বিদ্রুপের মতোই সাধারণের মনে হইতেছে৷ কেন্দ্রের কোনও কোনও মন্ত্রী বোধহয় রাজ্যে আসেন প্রমোদ ভ্রমণে৷ তাহা না হইলে রাজ্যের আমলাদের হাতে তামাক খাইয়া রাজ্য সরকারের পিঠ চাপড়াইতে পারেন? এই যদি পরিণতি হয় তাহা হইলে সরকারী অর্থ ব্যয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের রাজ্য সফরের সার্থকতা কি এই প্রশ্ণ উঠিতেছে৷


















