
একটি বছর ইতিহাসের গর্ভে বিলীন হইয়া গেল৷ যাত্রা শুরু হইল আরেকটি বছরের৷ ২০১৬ খৃষ্টাব্দের শুভ যাত্রা গোটা বিশ্বেই নতুন বার্তা নিয়া আসে৷ এইবারের ইংরেজী নববর্ষে শান্তি, সুস্থিতি ও উন্নয়নের দিক নির্দেশ কতখানি করিবে তাহা নিয়া বিতর্ক থাকিবেই৷ এই অবস্থায় বিদায়ী বর্ষ ২০১৫ আমাদের কাছে কতখানি প্রেরণা যুগাইয়াছে, উন্নয়নের স্রোতধারা কতখানি বহিয়াছে, প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কতখানি সন্তুষ্টি আনিয়াছে, বিশ্বের বুকে ভারতের উজ্জল ভূমিকা কতখানি ছিল এইসহ নানা বিষয় আজ হিসাবের খাতায় উঠিয়া আসারই কথা৷ বিদায়ী বছরের পাওয়া না পাওয়ার হিসাব করিবার তাগিদ কতখানি আছে? পাওয়ার আনন্দ ও না পাওয়ার বেদনাই তো এক্ষেত্রে ভাবিবার সুযোগ করিয়া দেয়৷ বিগত বছর ছিল ঘটনাবহুল৷ কেন্দ্রে পালা বদলের ঘটনায় নতুন সরকারের কর্মজ্ঞ, দেশ জুড়িয়া প্রশস্তি, বিতর্কের মাঝে নতুন ভাবনা, স্বপ্ণ দেখা ইত্যাদি ঘটনা বহুলতায় অবলীলায় কাটিয়াছে বিদায়ী বছর৷ ২০১৬ সালের যাত্রা শুরুর মাঝে কী প্রত্যাশা জাগাইবে, শান্তি সুস্থিতির মাঝে নতুন বিশ্বকে খঁুজিয়া নেওয়ার সুযোগ কতখানি আসিবে সেই ভাবনা নিশ্চয়ই জনমানসকে আলোড়িত করিবেই৷
গ্রাম্য একটি কথা খুব চালু আছে ‘যায় দিন ভালোই যায়৷’ অর্থাৎ যে দিন গিয়াছে তাহা ভালোই৷ ইহার অন্তর্নিহিত অর্থ হইতেছে সামনের দিন খুব কঠিন ও দুঃখের হইয়া আসিতেছে৷ এই দুঃখ ও বেদনার নির্মম পরিণতি কিভাবে আসে? আজ বিশ্ব জুড়িয়াই চলিতেছে টাকার খেলা৷ কালো টাকার দাপট তো বন্ধ করা যাইতেছে না৷ যে বিজেপি ভোটের আগে ওয়াদা করিয়াছিল বিদেশে ব্যাংকে গচ্ছিত কালো টাকা উদ্ধার করা হইবে৷ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করিতে পারে নাই বিজেপি সরকার৷ এইসব বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের জনপ্রিয়তায় বিরাট আঘাত আসিয়াছে৷ বিহারে নীতীশ-লালুর জয় বিজেপির চক্ষু খুলিয়া দিয়াছে কিনা কে জানে৷ তবে, এই মুহুর্তে, রাজ্যে রাজ্যে নির্বাচনে বিজেপি যেভাবে পর্য্যুদস্ত হইতেছে তাহা আগামী দিনে রাজনৈতিক সমস্যা সামনে আসিয়া দাঁড়াইবে কিনা কে বলিতে পারে? আজ গোটা বিশ্বেই ইংরেজীর একাধিপত্য চলিতেছে৷ সেখানে বাংলা ও অন্যান্য ভাষা ফুৎকারে উড়িয়া গিয়াছে৷ বিশ্ব জুড়িয়াই ইংরেজীর এই একাধিপত্য প্রকৃতপক্ষে অন্যান্য ভাষাকে দাবাইয়া রাখিয়াছে৷ আজ ইংরেজী মাধ্যম সুকলের জয়জয়কার৷ অভিভাবকরা এখন ইংরেজী প্রেমে হাবুডুবু খাইয়া মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা অবহেলার মাঝেই ছুড়িয়া ফেলিয়াছেন৷ শুধু ইংরেজী বর্ষ নহে, সর্বত্রই এই আধিপত্যের কারণে বাংলা ও অন্যান্য ভাষাও এখন লোক দেখানো ব্যাপার বলিয়া পরিগণিত হইয়াছে৷ ইংরেজী নববর্ষে বিশ্ব যেভাবে নাচিয়া উঠে, বর্ষবরণে যে উদ্দামতায়, উচ্ছাসে মানুষ নতুনের আনন্দে মাতিয়া উঠে সেভাবে আর কোনও বর্ষ বরণে সেই অন্তরাত্মা জাগিয়া উঠে না৷
ইংরেজীর এই দাপট আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের সামনে ভয়ানক বিপদের ইঙ্গিতই নিয়া আসিতেছে৷ এই দাপটে অন্যান্য ভাষাগুলি হারাইয়া যাইবার উপক্রম হইয়াছে৷ বাঙালী ঘরের সন্তান হইয়াও বাংলায় লিখিতে পড়িতে পারে না৷ আর ইহাতে বাঙালী পিতামাতা গর্ব অনুভব করে৷ এই যখন অবস্থা তখন বাংলা ও অন্যান্য ভাষা কোথায়, কিভাবে দাঁড়াইবে? ইংরেজীর আগ্রাসনে বিলুপ্তির পথে অন্যান্য ভাষা৷ সবচাইতে অবাক হইবার পালা আমাদের জনপ্রতিনিধিরা, প্রাজ্ঞ ও বিজ্ঞরা এই বিষয়ে মৌণং সম্মতি লক্ষণম চালাইয়া যাইতেছেন৷ এইভাবে আগামী দিনেও নতুন ইংরেজীর জয়গানের সঙ্গে নতুন বর্ষকে আবেগ উচ্ছাসে বরণ করিবে৷ নতুন বছরের স্বপ্ণে, নতুন সুর্য্যোদয়ের সাধনা করিবে৷


















