ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ চাকুরিচ্যুত ১০৩২৩ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ ফেব্রুয়ারী৷৷ চাকুরিচ্যুত ১০৩২৩ শিক্ষকরা ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন৷ ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্পেশাল লিভ পিটিশন জমা দিয়েছেন চাকুরীচ্যূতদের পক্ষে শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ সাহা৷ তিনি জানিয়েছেন, আজ সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ইউ ইউ ললিত এবং বিনিত শরণের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা গ্রহণের উপর আংশিক শুনানি হয়েছে৷ আগামী শুক্রবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে৷ তিনি বলেন, মামলা গ্রহণ হলে তারপর মূল শুনানি শুরু হবে৷


২০১৪ সালে ত্রিপুরা হাইকোর্ট ১০৩২৩ জন শিক্ষকের চাকুরী বাতিল করেছিল৷ এরপর থেকে সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের চাকুরী বাঁচানোর প্রশ্ণে ত্রিপুরা সরকার একাধিকবার পিটিশন দাখিল করেছে৷ কিন্তু, সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে৷ তবে, শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পরে তাই, চাকুরিচ্যুত শিক্ষকদের এডহক ভিত্তিতে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত চাকুরীর মেয়াদ বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷
ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়ের অনুচ্ছেদ ১২৬ নিয়ে যাঁরা মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছেন কেবলমাত্র তাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, বাকিদের চাকরি সুরক্ষিত রয়েছে, এ-বিষয়ে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের একাংশ মামলা করেন৷ কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়ায় তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন৷ কিন্তু দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৩ অক্টোবর ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের মুখ্য বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি অরিন্দম লোধের ডিভিশন বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের রায় বহাল রাখেন এবং তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেন৷ শুধু তা-ই নয়, ত্রিপুরা সরকার সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পালনে বাধ্য সে-কথাও বেঞ্চ মনে করিয়ে দিয়েছিলেন৷


উচ্চ আদালত রায়ে বলেছিল, সুপ্রিমকোর্ট এ সংক্রান্ত মামলায় এই সিদ্ধান্ত দিয়ে ফেলেছে৷ সেক্ষেত্রে নতুন করে কোন রায় দেওয়ার এক্তিয়ার নেই উচ্চ আদালতের৷ আদালত আরও বলেছিল, সুপ্রিমকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে এখন কেবলমাত্র রাজ্য সরকার এ বিষয়ে ভাবতে পারবে৷ সাথে আদালত আরও বলেছিল, রাজ্য সরকারের উচিত সুপ্রিমকোর্টের রায় কার্যকর করা৷ কারণ, সংবিধান মেনে রাজ্য সরকার সুপ্রিমকোর্টের রায় মানতে বাধ্য৷ পাশাপাশি, আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছিল এই রায়ের রিভিউ করার ব্যাপারে এখন আর কোনও এক্তিয়ার নেই মামলাকারীদের৷


আজ চাকুরিচ্যুত শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ সাহা নয়াদিল্লি থেকে টেলিফোনে হিন্দুস্থান সমাচার-কে জানিয়েছেন, ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিলাম৷ কিন্তু, শীতকালীন অবসর এবং বিচারপতির ছুটিতে থাকায় ওই আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে৷ তিনি বলেন, আজ বিচারপতি ইউ ইউ ললিত এবং বিনিত শরণের ডিভিশন বেঞ্চে ওই আবেদন গ্রহণের উপর আংশিক শুনানি হয়েছে৷ আগামী শুক্রবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে৷