
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ ডিসেম্বর ৷৷ রাজ্যে বনধকে কেন্দ্র করে অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের গুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷
তার কথায়, ধর্মীয় মেরুকরণ ও সমাজে বিভাজন সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আনীত সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল প্রথম থেকেই আমরা বিরোধীতা করছি৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক আহুত ২৯শে নভেম্বরের সভায় আমন্ত্রীত হয়ে উপস্থিত থাকতে না পারলেও সাথে সাথেই লিখিতভাবে এই সংশোধনীর বিরোধীতার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি৷ এবং এই সংশোধনী বিল প্রত্যাহার করে নেবার জন্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছি৷
তিনি বলেন, এই বিল নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী,সংগঠন এবং ব্যক্তির স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করার পূূর্ণ অধিকার আছে৷ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করার অধিকারও রয়েছে৷
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উল্লেখিত বিলটির বিরোধীতা করে নানা ধরনের কর্মসূচি সংগঠিত করে চলেছে৷ এর মধ্যে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকায় বনধ এবং ত্রিপুরা বন্ধের কর্মসূচি রয়েছে৷ কোন একটি যুক্তমঞ্চের তরফ থেকে লাগাতর বা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ত্রিপুরা বনধেও ডাকও রয়েছে৷
তিনি বলেন, অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে গত ৯ ডিসেম্বর থেকে বনধকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে উস্কানীমূলক ঘটনা সংগঠিত করা হচ্ছে৷ বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে, ভাংচুর, লুণ্ঠন, জখম এবং অগ্ণিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে৷ আক্রমণের মুখে কিছু এলাকায় ভীত সন্ত্রস্ত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন৷ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শান্তি বিঘ্নের কারণে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে৷
তিনি বলেন, এই অবস্থা কোনওভাবেই কাম্য নয়৷ দ্রুত এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে দলমত নির্বিশেষে শান্তি ও সম্প্রীতিকামী শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন সকল ত্রিপুরাবাসীকে এগিয়ে আসবার জন্য তিনি অনুরোধ জানান৷



















