নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুন ৷৷ আন্তর্জাতিক ড্রাগ মাফিয়াকে জালে তুলেছে পুলিশ৷ বুধবার ভোরে সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া থানার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ি থেকে সামসুল আলম (৫০) নামের ড্রাগ মাফিয়াকে আটক করেছে৷ তার বিরুদ্ধে মিজোরামের চাম্পাই থানায় মাদক পাচারের মামলা রয়েছে৷ সোনামুড়া থানার ওসি জানিয়েছেন, মিজোরাম পুলিশকে তার গ্রেফতারির খবর দেওয়া হয়েছে৷ তারা ত্রিপুরার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে৷ ধৃত সামসুল আলমকে ট্রানজিট রিমান্ডে মিজোরামে নিয়ে যাওয়া হবে৷

প্রসঙ্গত, মাদক পাচারে ত্রিপুরাকে কড়িডর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ ফলে, আন্তর্জাতিক ড্রাগ মাফিয়াদের এখন ত্রিপুরায় অবাধ বিচরণ, তা সামসুল আলমের গ্রেফতারিতে স্পষ্ট৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সোনামুড়া থানার পুলিশ৷
সোনামুড়া থানার ওসি জানিয়েছেন, মিজোরামের চাম্পাই থানায় সামসুলের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলা রয়েছে৷ তাই গ্রেফতারি এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল সে৷ ওসি-র কথায়, সামসুল নিজেকে অসমের শিলচরের বাসিন্দা বলে ত্রিপুরায় পরিচয় দিয়েছে৷ সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাড়িতে ১৫ দিন ধরে ভাড়াটে হিসেবে জীবনযাপন করছিল সে৷ কিন্তু, তার প্রকৃত ঠিকানা হল মায়ানমার৷ ওসি দাবি করেন, মায়ানমারের আরকান প্রদেশের বাসিন্দা সামসুল আলম৷ আন্তর্জাতিক ড্রাগ মাফিয়া হিসেবে তার যথেষ্ট কুখ্যাতি রয়েছে৷ তিনি বলেন, ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারের উদ্দেশ্যেই সামসুল এই অঞ্চলে ঘোরাফেরা করছিল৷
সোনামুড়ায় কীভাবে সামসুল বাড়ি ভাড়া নিয়েছে, সেই তদন্ত খুবই জরুরি বলে মনে করছে পুলিশ৷ সোনামুড়া থানার ওসি-র মতে, পরিচয় ছাড়া এভাবে বাড়ি ভাড়া নেওয়া সম্ভব নয়৷ তাই, তার সাথে যুক্তদেরও খুঁজে বের করতে হবে৷ সে মোতাবেক তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷
এদিকে, মিজোরাম পুলিশকে ইতিমধ্যেই সামসুল আলমের গ্রেফতারির খবর দিয়েছে সোনামুড়া থানার পুলিশ৷ মিজোরামের চাম্পাই থানা থেকে পুলিশের এক বিশেষ দলও ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে৷ সোনামুড়া থানার ওসি জানিয়েছেন, মিজোরামের চাম্পাই থানার পুলিশ সামসুল আলমকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাবে৷ তবে সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য বেরিয়ে আসবে তা মিজোরাম পুলিশ ত্রিপুরা পুলিশকেও জানাবে৷


















