বেকারদের স্বরোজগারের দিশা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ ডিসেম্বর৷৷ ছেলে-মেয়েদের প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে প্রশিক্ষণ করে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে কাজ করছে রাজ্য সরকার৷ শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে কিভাবে ছেলে-মেয়েদের স্বরোজগারী করা যায় সেই বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনাও গ্রহণ করে চলেছে রাজ্য সরকার৷ আজ আর কে নগরে নবনির্মিত টুল রুম এন্ড ট্রেনিং সেন্টারটি জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তিনি বলেন, রাজ্যের আইটিআইগুলিতে আগে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা পড়ানো হত৷ কোন ধরনের প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা ছিল না৷ আই টি আই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে শিক্ষালাভ করে ছেলেমেয়েরা যাতে প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং নিতে পারে তার জন্য এই টুল রুম এন্ড ট্রেনিং সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে৷ এখান থেকে তারা প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং নিয়ে স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে লোন নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে উদ্যোগ হবেন৷ এতে তারা নিজে স্বরোজগারী হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্যদেরও রোজগারের ব্যবস্থার পথ সুগম করতে পারবেন৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও দেশের প্রতিটি ব্যক্তিকে রোজগার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন৷ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি এন্টারপ্রেনারশিপপক্ উন্নয়ন করার লক্ষ্যেও বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কাজ করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থা যদি মজবুত করা যায় তবেই দেশ মজবুত হবে৷ সরকার রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক উন্নয়ন করার লক্ষ্যে এফসি আই-এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে নূ্যনতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করার প্রক্রিয়া গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করেছে৷ এর ফলে ধান বিক্রির টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে৷ এভাবে কৃষকদের উন্নয়নেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে রাজ্য সরকার৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ধরনের এন্টারপ্রেনারশিপ স্থাপনের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের রোজগার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই ৮২০টি এন্টারপ্রেনারশিপ নতুন রেজিস্ট্রেশান করিয়েছে৷ এরমাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার লোকের রোজগারের পথ সুগম হবে৷ এই ট্রেনিং সেনটআর থেকে ছেলেমেয়েরা আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ নিয়ে শিল্পক্ষেত্রে ত্রিপুরাকে এগিয়ে নিয়ে নতুন ত্রিপুরা গড়ার কাজে উদ্যোগী হবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন৷ শিল্প সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে ৩ বছরের মধ্যে ত্রিপুরাকে মডেল রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলার লে৭ সকলকেই সংকল্পবদ্ধ হতে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷
অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথির ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারের এমএসএমই দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, দেশ যদি শিল্প বিকাশের পাশাপাশি কৃষি ভিত্তিক উন্নয়ন করা যায় তবে দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ আরও সুদৃঢ় হবে৷ ত্রিপুরার রাবার চাষীদের কিভাবে আরও বেশি পরিমাণে রাবার উৎপাদনে সাহায্য করা যায় তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে৷ ত্রিপুরার বাঁশকে ভিত্তি করে কিবাবে বাঁশ জাত শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে আরও বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি করা যায় তার জন্যও কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে৷ রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে ছেলেমেয়েদের রোজগারের পথ সুগম করার লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান রাজ্য সরকার৷ ত্রিপুরাকে প্রযুক্তিগত উনয়নের কাজে কেন্দ্রীয় সরকার পুরোপুরি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন বলেও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী সিং আশ্বাস দিয়েছেন৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা স্বপ্ণা দেবনাথ বলেন, ১০ একর এলাকা নিয়ে এই টুল রুম এন্ড ট্রেনিং সেন্টারটি গড়ে তোলা হয়েছে৷ এতে ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ৷ সেন্টারের ভবনটিতে প্রসাসনিক ভবন, কর্মশালার ভবন, হোস্টেল এবং ক্যান্টিন রয়েছে৷ এই সেন্টারে ১৩টি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে৷
অনু,ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাকেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় সরকারের এমএসএমই দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব রামমোহন মিশ্র, ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারপার্সন টিংকু রায় এবং ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের ও এস ডি ইঞ্জিনিয়ার রাজেশ কুমার দাস৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস৷