News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • বেকার ও কর্মচারী মন জয়ে ঢালাও প্রতিশ্রুতি রাজনাথের
Image

বেকার ও কর্মচারী মন জয়ে ঢালাও প্রতিশ্রুতি রাজনাথের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ ফেব্রুয়ারি৷৷ বেকার ও সরকারি শিক্ষক কর্মচারী৷ দুই তুরুপের তাস ভালোই ব্যবহারের চেষ্টা

রবিবার আগরতলায় বিজেপির সংকল্প রথ যাত্রায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সহ অন্যান্যরা৷ ছবি নিজস্ব৷

করলেন  বিজেপির বরিষ্ঠ নেতা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ কর্মসংস্থানের প্রশ্ণে কার্য্যত ঋণ মেলার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি৷ শুধু তাই নয়, বিজেপি সরকার গঠন করলে সারা দেশের মত এরাজ্যের সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের জন্যও সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি৷

রাজধানী আগরতলায় কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাজনাথ সিংয়ের রোড শো শুরু হয়েছে৷ রাজপথে নেমেছে জনঢল৷ সে সঙ্গে এগিয়ে চলছে বিজেপির বিজয় রথ৷ উপচে পড়া ভিড়ের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বিজয় রথ চলছে৷ রাজনাত সিং আর বিজেপি র সুসজ্জিত বিজয় রথ দেখতে রাস্তায় দুপাশে অগণিত ভিড় জমিয়েছেন৷ বিভিন্ন স্থানে মহিলারা উলুধবনি দিয়ে, শঙ্খধবনি করে, পুষ্পবৃষ্টি করে বিজয় রথকে স্বাগত জানাচ্ছেন৷ কড়া নিরাপত্তা প্রহরায় রাজনাথ সিং এর রোড শো শুরু হয়েছে আগরতলায় দুর্গাবাড়ি থেকে৷ রোড শো শুরু করার আগে বিজয় রথের যাত্রা সূচনা করেন রাজনাথ সিং৷ বিজয় রথগুলিতে ছবি লাগানো আছে বিজেপির সমস্ত প্রত্যাশীদের৷ কেন্দ্রীয় সুরক্ষা বাহিনী আইটিবিপি এবং সিআরপিএফ এর মহিলা রক্ষীরা রাস্তার দুধারে ভিড় সামলাচ্ছেন৷ একই সঙ্গে রয়েছেন এনএসজির কমান্ডোরাও৷ ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তা কর্মীদের৷ খুব ধীরে রাজনাথ সিংয়ের কনভয় এগিয়ে চলেছে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন রাজ্য বিজেপি র সভাপতি বিপ্লবকুমার দেব৷ প্রথম পর্যায়ের রোড শো বেলা দুটো নাগাদ শেষ হওয়ার ছিল৷ মধ্যাহ্ণ ভোজের বিরতির পর দ্বিতীয় পর্যায়ের যাত্রা শুরু হয় বিকেল প্রায় সাড়ে তিনটে থেকে৷

রবিরারবিজয় সংকল্প রথযাত্রা শেষে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, বামফ্রন্ট যেদিন ক্ষমতায় এসেছিল তখন সারা রাজ্যে বেকারের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার৷ আজ এই সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৭ লক্ষে৷ তাঁর কথায়, সবাইকে সরকারি চাকুরী দেওয়া সম্ভব নয়৷ কিন্তু, বিজেপি সরকার গঠন করলে বেকারদের কর্মসংস্থানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে৷ তাঁর বক্তব্য, আজ যারা বেকার তারা স্বরোজগারি হয়ে উঠলে কর্মসংস্থান তাদের পক্ষেও সম্ভব৷ তিনি জানান, বেকারদের সস্তায় ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে৷ মুদ্রা স্কীম চালু রয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই প্রকল্পে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন না৷ বিজেপি সরকার গঠন করলে মুদ্রা স্কীমের মাধ্যমে ঋণ প্রদানের সংখ্যা কয়েকগুন বাড়ানো হবে৷ তিনি নিশ্চিত এই পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বেকার সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে৷

এদিন তিনি রাজ্যের সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের মন খুশিতে ভরিয়ে দিয়েছেন৷ তার বক্তব্য, বিজেপি সরকার গঠন করলে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে৷ তাঁর কথায়, সারা দেশের সাথে এই রাজ্য তিন কদম পিছিয়ে রয়েছে৷ এবিষয়ে তার ব্যাখ্যা, সারা দেশে সপ্তম বেতন কমিশন চালু হয়েছে৷ অথচ এরাজ্যের সরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা চতুর্থ বেতন কমিশন অনুযায়ী বেতন ভাতা পাচ্ছেন৷ তবে, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে স্বল্প দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন এরাজ্যে লাগু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন রাজনাথ সিং৷

এদিন তিনি বলেন, বিজেপি হিংসায় বিশ্বাস করে না৷ কিন্তু ত্রিপুরাতে বিজেপিকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে৷ বাদ যাচ্ছেন না সাংবাদিকরাও৷ রাজ্যের সাধারণ আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে৷ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন৷ তবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে৷ এমন কি সিপিআইএম এর ক্যাডাররাও নিরাপদে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সক্ষম হবেন৷ সরকারি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে বিজেপি৷ তিনি বলেন, বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসার অব্যবহিত পরেই অন্তত সাতদিনের মধ্যে দুই সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়া হবে৷ বর্তমান সরকার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে ভয় পাচ্ছে৷ কারণ এর পেছনে অনেক রহস্য আছে৷ তিনি আরও বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি দেশকে বিশ্বের অগ্রণী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়৷ কিন্তু কোনও রাজ্যকে অনুন্নত রেখে তা সম্ভব নয়৷ তাই উন্নয়নের জন্য এ রাজ্যেও পরিবর্তন দরকার৷

রাজনাথ সিং এদিন উদ্বেগের সুরে বলে, ত্রিপুরায় ভ্রষ্টাচার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে৷ রাজ্যের মানুষ এই অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নিজেকে স্বচ্ছ বলে তুলে ধরতে চাইছেন৷ কিন্তু সরকারকে ভ্রষ্টাচারে ডুবিয়ে রেখে নিজেকে স্বচ্ছ হিসাবে তুলে ধরার কোনও যৌক্তিকতাই থাকতে পারে না৷ ইউপিএ আমনে প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং এরও একই অবস্থা ছিল৷ তাঁর বক্তব্য, দেশে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং ত্রিপুরার উন্নয়নে দৃষ্টি দেওয়া হয়৷ মানুষ জানেন সিপিআইএম কিংবা কংগ্রেসের সরকার এ রাজ্যে রেল আনেনি৷ রেল এনেছে বিজেপি পরিলিত সরকার৷ উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করা হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে৷

Releated Posts

অনুরাগ ধনকরের মৃত্যু নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ‘হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে কংগ্রেসের মিছিল

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আগরতলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। পুলিশপ্রধান অনুরাগ ধনকরের মৃত্যুর…

ByByReshmi Debnath Sep 3, 2026

ডেপুটেশন ঘিরে কৈলাসহর কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘাত, অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ

কৈলাসহর, ২ সেপ্টেম্বর: ডেপুটেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে কৈলাসহর কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ত্রিপ্রা ইন্ডিজিনিয়াস…

ByByReshmi Debnath Sep 2, 2026

ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে বিলোনিয়ায় সিপিআই(এম)-এর ২১ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ২ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ত্রিপুরার তিনটি ব্লকে মোট ২১টি আসনে…

ByByReshmi Debnath Sep 2, 2026

প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করছে ত্রিপুরা, নজরদারিতে ৫১৫ সিসিটিভি

আগরতলা, ৩১ আগস্ট: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করছে ত্রিপুরা…

ByByTaniya Chakraborty Aug 31, 2026
Scroll to Top