নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ মার্চ৷৷ নারী সংক্রান্ত অপরাধের সাথে আবারও নাম জড়াল রাজনৈতিক দলের দুই নেতার৷ অভিযুক্তদের একজন কেন্দ্রের শাসক দলের, অন্যজন রাজ্যের শাসক দলের৷ ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷ অভিযুক্তদের একজন তো শাসক দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি৷ দুটি ঘটনারই পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা নিয়েছে৷ তবে গ্রেপ্তারের কোন খবর নেই৷
সংবাদে প্রকাশ, ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমার দলপতি এডিসি ভিলেজের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শান্তি মোহন ত্রিপুরার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলাকারই এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছেন৷ ধর্ষিতা গৃহবধূ এই বিষয়ে গন্ডাছড়া থানায় একটি এফআইআর করেছেন৷ তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেনি অভিযুক্তকে৷ জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে দলপতি অডিসি ভিলেজের সিপিএমের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শান্তি মোহন ত্রিপুরা প্রতিবেশী এক বাড়িতে প্রবেশ করে এবং নির্জনতার সুযোগ নিয়ে ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ৷ শুধু তাই নয় এই বিষয়ে যদি মুখ খুলেন তাহলে ঐ গৃহবধূকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ তারপরই ঐ মহিলা গন্ডাছড়া থানায় গিয়ে গোটা ঘটনা জানিয়ে শান্তিমোহন ত্রিপুরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন৷ পুলিশ প্রথমে এফআইআর নিতে গরিমসি করলেও পরে এফআইআর গ্রহণ করেছে৷ কিন্তু, ঘটনার চবিবশ ঘন্টা অতিক্রান্ত হতে চলেছে৷ গ্রেপ্তারের কোন খবর নেই৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷ প্রসঙ্গত, এই দলপতি এডিসি ভিলেজেরই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন প্রয়াত চাঁন মোহন ত্রিপুরা৷ চাঁন মোহন ত্রিপুরা বিজেপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন৷ দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল সিপিএমের ক্যাডাররা চাঁন মোহন ত্রিপুরাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে৷ এনিয়ে গোটা রাজ্যে ব্যাপাক প্রচার করেছিল বিজেপি৷ এমনকি হত্যার প্রতিবাদে রাজধানী আগরতলায় প্রতিবাদ মহা সমাবেশও করেছিল বিজেপি৷
অন্যদিকে, কেন্দ্রের শাসক দল তথা বিজেপির এক নেতার বিরুদ্ধে চৌদ্দ বছরের নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে৷ ঘটনা বিশালগড়ের কলকলিয়া এলাকায়৷ জানা গিয়েছে অভিযুক্ত মিঠন দেবনাথ এলাকারই এক নাবালিককে প্রথমে কু-প্রস্তাব দেয়৷ তাতে ঐ নাবলিকা রাজি না হওয়ায় তার শ্লীলতাহানি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে মিঠন দেবনাথের বিরুদ্ধে৷ এই বিষয়ে নির্যাতিতার অভিভাবক বিশালগড় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন৷ মামলা নিলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেনি৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় রীতিমতো উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে৷ এলাকাবাসীর তরফ থেকে অভিযুক্ত যুবকের কঠোর শাস্তির দাবী জানানো হয়েছে৷
2017-03-17

