কৈলাসহর, ৮ অক্টোবর: শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে অল্প দূরত্বে ১৭ বছরের এক নাবালিকাকে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৈলাসহারে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বাড়ি ফেরার পথে নাবালিকাকে পিছন থেকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এক যুবক। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরোধ করে ওই যুবকের হাতে কামড় বসিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় নাবালিকা। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবককে স্থানীয়রা ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে কৈলাসহর থানার অন্তর্গত গোবিন্দপুর এলাকার স্পোর্টস অফিস সংলগ্ন এলাকায়।
জানা গেছে, ওই এলাকার এক রিকশাচালকের ১৭ বছরের মেয়ে বুধবার রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ মামার বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। স্পোর্টস অফিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই পিছন থেকে এক যুবক তার মুখ চেপে ধরে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। সেই সময় আত্মরক্ষার জন্য নাবালিকা যুবকের হাতে কামড় দেয়। যুবকটি হাত সরিয়ে নিতেই নাবালিকা চিৎকার শুরু করে।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সেই সময় অভিযুক্ত যুবক সেখান থেকে পালিয়ে পাশের নবনির্মিত ইন্ডোর স্টেডিয়ামের ভিতরে ঢুকে যায় বলে জানা যায়। নাবালিকা ও স্থানীয়রাও তার পিছু নিয়ে স্টেডিয়ামের ভিতরে গিয়ে যুবকটিকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাত সোয়া ১০টা নাগাদ তারা কৈলাসহর মহিলা থানায় ফোন করে বিষয়টি জানান।
কিন্তু অভিযোগ, থানার কাছেই ঘটনাস্থল হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। স্থানীয়রা একাধিকবার থানায় ফোন করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে বলে অভিযোগ।
অবশেষে রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ কৈলাসহর মহিলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর নাবালিকা এবং তার মা-বাবাও থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। নাবালিকা ও তার পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মহিলা থানার আধিকারিকের বিরুদ্ধে নাবালিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও তাকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। নাবালিকা কেন এত রাতে বাড়ির বাইরে ছিল, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন করে তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলেও পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের আরও দাবি, প্রথমে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ নেই বলে মামলা নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করা হয়। এরপর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানানো হলে সাংবাদিকরা থানায় পৌঁছন। নাবালিকার বক্তব্য নেওয়ার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় এবং শেষ পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
মামলাটির নম্বর কেএলএস/ ডব্লিউপিএস/২৬/২০২৬। পুলিশ অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে বিএনএস-এর ৭৪ নম্বর ধারা এবং পকসো আইনের ৮ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে আটক যুবকের কৈলাসহর রাজীব গান্ধী মহকুমা হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়।
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, তাকে কৈলাসহর আদালতে পেশ করা হয়েছে। এদিকে, আটক যুবক ত্রিপুরার বাসিন্দা নন বলেও জানা গেছে। তার বাড়ি রাজস্থান রাজ্যে। গোবিন্দপুর এলাকায় নির্মীয়মাণ ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরির কাজ করতে প্রায় দুই মাস আগে রাজস্থান থেকে কৈলাসহরে এসেছিলেন তিনি। বর্তমানে স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে স্টেডিয়ামটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর কৈলাসহর মহিলা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাবালিকার পরিবার ও স্থানীয়রা। মহিলাদের অভিযোগ গ্রহণ ও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মহিলা থানা থাকলেও সেখানে একজন নাবালিকাকে হয়রানির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলেই মনে করছেন তাঁরা।
———–