নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): দেশে বর্তমানে দুই মতাদর্শের মধ্যে লড়াই চলছে বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে এমন একটি মতাদর্শ রয়েছে, যা সংবিধানকে সম্মান করে এবং মানুষের সেবা করে। অন্যদিকে বিরোধীরা সংবিধানকে দুর্বল করার পাশাপাশি দেশে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।
ভাটিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ২৫ বছর ধরে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশের মানুষের সেবা করে আসছেন। প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সংবিধানের মূল ভাবনাকে সম্মান করে কাজ করেছেন বলেও দাবি করেন বিজেপি মুখপাত্র।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক যাত্রাকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করে ভাটিয়া বলেন, এর বিপরীতে বিরোধী দলগুলির নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে অরাজকতার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিন পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিত পুরসভা নির্বাচন নিয়েও আম আদমি পার্টি (আপ)-এর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন ভাটিয়া। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ পাঞ্জাবের ৫০টি পুরসভা ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বাতিল করেছে।
ভাটিয়া প্রশ্ন তোলেন, ‘স্বরাজ’-এর স্লোগান দিয়ে রাজনীতিতে আসা একটি দল কোন পথে এগোচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পাঞ্জাবের আপ সরকারের আমলে পুরসভা নির্বাচনে সরকারি যন্ত্রের অপব্যবহার করা হয়েছে এবং বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মে মাসে পাঞ্জাবে পুরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও সামনে আসা তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে এক সদস্যের তথ্য-অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিল। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে কমিটি সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দেয় বলেও জানান তিনি।
ভাটিয়ার দাবি, ওই রিপোর্টে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সরকারি যন্ত্রের অপব্যবহার করে বিরোধী দলের প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে আটকানোর চেষ্টা করেছেন।
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, কোনও প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগই না দেওয়া হলে তা সরাসরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ বিরোধী নেতারা দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন বা ‘হত্যা’ করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করেছেন, তারও জবাব চান ভাটিয়া। তিনি প্রশ্ন করেন, এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তি কী?
ভাটিয়া বলেন, “বিরোধীরা গণতন্ত্রের অবসানের অভিযোগ তুলছে। কিন্তু এই অভিযোগের ভিত্তি কী? সুপ্রিম কোর্ট যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংক্রান্ত গুরুতর বিষয়গুলিতে নিজেই হস্তক্ষেপ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন বিরোধীদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আস্থা রাখা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার কথা বলেন, তাদের নিজেদের রাজ্য এবং রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপের দিকেও নজর দেওয়া উচিত।”
বিরোধীদের অভিযোগের কোনও শক্ত ভিত্তি নেই দাবি করে ভাটিয়া বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তিনি বিরোধী দলগুলিকে ভিত্তিহীন অভিযোগ না তুলে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আবেদন জানান।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে বিজেপি ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই ভাটিয়ার এই মন্তব্য সামনে এল। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। অন্যদিকে বিজেপি সেই অভিযোগ খারিজ করে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলেছে।
— আইএএনএস



















