নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): ভারতের টেলিকম খাত এখন আর শুধু নেটওয়ার্ক, স্পেকট্রাম বা ইন্টারনেটের গতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মোবাইল সংযোগ সুশাসন এবং সরকারি পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে বলে বৃহস্পতিবার মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের (আইএমসি) দশম সংস্করণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং গুরুত্বে আমূল পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যম থেকে মোবাইল ফোন এখন সরকারি পরিষেবা ও সুশাসন পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মোবাইল ফোন সুশাসনের একটি হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।”
আইএমসির যাত্রাপথের কথা স্মরণ করে মোদি বলেন, ভারতের টেলিকম খাতের অগ্রযাত্রায় এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২২ সালে এই মঞ্চ থেকেই ভারতে ৫জি পরিষেবার সূচনা হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, ভারত ৫জি চালুর পর্যায় পেরিয়ে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের প্রতিটি জেলায় ৫জি সংযোগ পৌঁছে গিয়েছে। ভারতে ৫জি নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য ৫.৫ লক্ষেরও বেশি বেস স্টেশন রয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
মোদি বলেন, এক দশক আগে ডিজিটাল বিভাজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন প্রযুক্তি তখন অনেকের কাছে সুযোগের বদলে বিশেষ সুবিধার বিষয় হয়ে উঠছিল। এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির মাধ্যমে মোবাইল ফোনকে ডিজিটাল পরিষেবা ও জনসেবার প্রসারের অন্যতম কেন্দ্রীয় মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়।
এবারের আইএমসির মূল ভাবনা ‘স্কেল উইদাউট বাউন্ডারিজ’ বা ‘সীমাহীন সম্প্রসারণ’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাবনা ভারতের টেলিকম ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, ভারতের টেলিকম খাতের অগ্রগতি শুধুমাত্র নেটওয়ার্কের গতি বা স্পেকট্রামের পরিমাণ দিয়ে বিচার করলে হবে না। এর প্রকৃত প্রভাব দেখা যায় কীভাবে প্রযুক্তি সুশাসনকে সহজ করেছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছে তার মধ্যে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয়দের কাছে টেলিকমের অর্থ আরও অনেক বেশি।”
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোর গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, মহামারির সময় বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে গেলেও ভারতের ডিজিটাল ব্যবস্থার সাহায্যে অফিস, ব্যাংক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আইএমসি এখন ভারতের টেলিকম ও ডিজিটাল খাতে অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
এবারের অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টেলিকম অপারেটর, শিল্পপতি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং স্টার্টআপ প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের দশম সংস্করণ ৭ থেকে ১০ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দপ্তর এবং সেলুলার অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে।
—আইএএনএস



















