নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁরা বলেন, নানা পাটেকরের অসাধারণ অভিনয় এবং স্মরণীয় চরিত্র ভারতীয় সিনেমা ও দর্শকদের হৃদয়ে অমোচনীয় ছাপ রেখে গিয়েছে।
ভারতীয় সিনেমার অন্যতম খ্যাতনামা অভিনেতা নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন। গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডোনা পাউলার নিজের বাড়িতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ হিন্দিতে দেওয়া শোকবার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবর অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাঁর অভিনয় এবং বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় সিনেমা ও দর্শকদের হৃদয়ে অমোচনীয় ছাপ রেখে গিয়েছেন। এই শোকের সময়ে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধু এবং অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান রাহুল।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর অসাধারণ অভিনয়, ভারতীয় সিনেমায় বহুমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং কৃষক ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নানা পাটেকরের পরিবার, বন্ধু ও অগণিত অনুরাগীর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান তিনি।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাও নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণের খবর অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রয়াত আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং তাঁর অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে বিশ্বনাথ পাটেকর নামে জন্মগ্রহণ করেন নানা পাটেকর। শক্তিশালী অভিনয়, সংলাপ বলার নিজস্ব ধরন এবং জটিল ও ব্যতিক্রমী চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ দক্ষতার জন্য তিনি ভারতীয় সিনেমায় স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় তাঁর অভিষেক হয়। ‘সালাম বম্বে!’ এবং ‘পরিন্দা’-র মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ‘অঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘যশবন্ত’, ‘অব তক ছাপ্পন’, ‘অপহরণ’ এবং ‘রাজনীতি’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর শক্তিশালী অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে।
হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি মারাঠি সিনেমা ও থিয়েটারেও নানা পাটেকরের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবির মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর কমেডি অভিনয়ও বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যে।
‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’, ‘ওয়াজুদ’, ‘হু তু তু’, ‘গ্যাং’, ‘দিওয়ানগি’, ‘ভূত’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়েলকাম ব্যাক’, ‘নটসম্রাট’ এবং ‘দ্য ভ্যাকসিন ওয়ার’-সহ বহু উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৩ সালে নানা পাটেকরকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-সহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেন। চার দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তাঁর অভিনীত অসংখ্য চরিত্র ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
—আইএএনএস



















