আগরতলা, ৫ অক্টোবর: স্বামী ও দুই সন্তানকে রেখে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আমতলী থানা এলাকায়। নিখোঁজ গৃহবধূকে খুঁজে বের করার দাবিতে তাঁর স্বামী শ্বশুর-শাশুড়িসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, আমতলী থানার অন্তর্গত নেতাজি সুভাষ কলোনি এলাকার বাসিন্দা ঝুটন মিয়া প্রায় ১৭ বছর আগে একই থানা এলাকার মতিনগর নোয়াপাড়ার বাসিন্দা রমজান আলীর মেয়ে রাজিয়া বেগমকে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়। অভিযোগকারী স্বামীর দাবি, দীর্ঘদিন তাঁদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর দুপুরে রাজিয়া বেগম বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান স্বামী ঝুটন মিয়া।
এরপর স্ত্রীকে খুঁজতে শ্বশুরবাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন তিনি। অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন তাঁর শ্বশুর রমজান আলী, শাশুড়ি চন্দ্রবান বিবিসহ শ্বশুরবাড়ির আরও কয়েকজন মিলে রাজিয়া বেগমকে কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ঝুটন মিয়া। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে মাকে না পেয়ে দুই সন্তান কান্নায় ভেঙে পড়েছে বলে জানান ঝুটন মিয়া। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, মাকে ছাড়া ছোট দুই সন্তানকে কোনওভাবেই শান্ত করা যাচ্ছে না। দ্রুত তাঁর স্ত্রীকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান তিনি।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে রাজিয়া বেগমের নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান এখনও জানা যায়নি। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও এ বিষয়ে জানা সম্ভব হয়নি।
























