কৈলাসহর, ৩ অক্টোবর: কৈলাসহরের হিরাছড়া এলাকায় একটি ফিশারি থেকে মাছ চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মাছ ধরতে যাওয়া আটজনের মধ্যে তিনজনকে মাছভর্তি ব্যাগসহ আটক করেন স্থানীয়রা। বাকি পাঁচজন মাছভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চণ্ডীপুর এলাকার আটজন মৎস্যশিকারি দীর্ঘদিন ধরে কৈলাশহর উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ফিশারি ও পুকুরে মালিকদের অনুমতি নিয়ে মাছ ধরার কাজ করতেন। চুক্তি অনুযায়ী মাছ ধরার পর নির্দিষ্ট একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে তারা নিতেন এবং বাকি মাছ ফিশারির মালিককে দিয়ে দেওয়া হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার ভোররাত প্রায় ৩টা ৫০ মিনিট নাগাদ ওই আটজন হিরাছড়া এলাকার একটি বড় ফিশারিতে মাছ ধরতে যান। পরে ফিশারির মালিক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মৎস্যশিকারিরা জানান, সেদিন ফিশারিতে খুব বেশি মাছ পাওয়া যায়নি। কিছু মাছ মালিককে দেওয়ার পাশাপাশি পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু মাছ নিয়ে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
তবে ফিশারির আকার অনুযায়ী এত কম মাছ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মালিকের সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করার পর টুকটুকিতে থাকা মাছের ব্যাগ ও জাল নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বাবুরবাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন টুকটুকিটি পরীক্ষা করেন। তখন দুটি জালের সাহায্যে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে ব্যাগে ভরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পাঁচজন মৎস্যশিকারি মাছভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, মাছভর্তি একটি ব্যাগসহ তিনজনকে আটক করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আটক তিনজনের সঙ্গে কোনও ধরনের মারপিট বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাননি এলাকার মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি টুকটুকি এবং মাছ ধরার জালও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি পলাতক পাঁচজনের সন্ধানেও তদন্ত শুরু হয়েছে। ফিশারি থেকে ঠিক কত পরিমাণ মাছ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।
























