নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর (আইএএনএস): মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। পরে সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি গান্ধীজির শান্তি, অহিংসা, সহমর্মিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের আদর্শের প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পালিত মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকীতে দেশের সমস্ত নাগরিকের পক্ষ থেকে আমি জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, গান্ধীজির জীবন ও আদর্শ বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন মহাত্মা গান্ধীর শান্তি ও অহিংসার বার্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের জাতীয় লক্ষ্য নিয়ে দেশ এগিয়ে চলেছে। এই যাত্রায় সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনও নাগরিক উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত না হন।
গান্ধীজির ‘সর্বোদয়’ বা সকলের কল্যাণ ও উন্নয়নের আদর্শের সঙ্গে এই ভাবনার সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। গান্ধী জয়ন্তীর শুভক্ষণে নৈতিক আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী, বিকশিত এবং আত্মনির্ভর ভারত গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণনও রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানান। গান্ধী জয়ন্তীর দিনে তাঁর অবদান ও উত্তরাধিকার স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতি বছর ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গান্ধী জয়ন্তী পালিত হয়। সত্য ও অহিংসার দর্শনের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা গান্ধীজির আদর্শ আজও দেশ-বিদেশে স্মরণ করা হয়। এদিন রাজঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শান্তি, অহিংসা এবং সকলের কল্যাণের তাঁর বার্তাকে পুনরায় স্মরণ করা হয়।



















