আগরতলা, ২৯ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (টিটিএএডিসি) ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে সোমবারের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে হিংসা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিজেপি ও তিপরা মথাকে নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। একইসঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
গোমতী জেলার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি বা সরকারি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয় এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ওয়ারেংবাড়িতে মথার এক প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনায় এক প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও দু’জন আহত হন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও শুরু হয়েছে। জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে কয়েকটি গাড়িতে করে লোকজন এসে ভোটকেন্দ্রে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। গাড়িগুলির নম্বর নথিভুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে বিজেপির সমর্থকরাও ছিলেন। তবে এই অভিযোগগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গোমতী জেলার গামারিয়া স্কুলের স্ট্রংরুমের কাছে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। ওই ঘটনায় গোমতী জেলার পুলিশ সুপার অনির্বাণ দাস-সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন বলে সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তিপ্রা মথা ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক। স্ট্রংরুমের কাছে বিজেপি সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়ে তিপ্রা মথার অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের কথা বলা হলেও পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপে রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে নির্বাচনে হিংসার বিচ্ছিন্ন ঘটনা সত্ত্বেও ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তুলনায় ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ভোটাররা বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সোমবারের ভোটগ্রহণে রাজ্যের উপজাতি এলাকায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। গোমতী জেলায় গুলির ঘটনা ও সংঘর্ষের খবর এলেও বাকি অধিকাংশ এলাকায় ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।



















