নিউইয়র্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সীমান্ত অচলাবস্থার সময়ের তুলনায় ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা স্বাভাবিক হবে, তা মূলত সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ভারত-চিন সম্পর্ক ভালো হয়েছে এবং ২০২৪ সালের তুলনায় আরও ভালো হয়েছে। তবে এই উন্নতিকে সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।
২০২০ সালের ঘটনাবলির পর দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত অচলাবস্থার কারণে দুই দেশের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বাণিজ্য চললেও সরকারি যোগাযোগ, ভিসা এবং বিমান পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটেছিল বলে জানান তিনি। সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কিছু যোগাযোগও পুনরায় শুরু হয়েছে।
জয়শঙ্কর বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভারত বা চিন কারও স্বার্থেই সহায়ক নয়। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির ফলে তৃতীয় পক্ষগুলি সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে না। তাঁর কথায়, “সীমান্তের পরিস্থিতিই সম্পর্কের পরিস্থিতি নির্ধারণ করে।”
ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতি ভারতের চিনের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অবস্থান শক্তিশালী করে বলে উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন এক বিষয় নয়।
ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত সীমান্ত রয়েছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের ওপর তার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভারত ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে।
ভারত বরাবরই বলে এসেছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৃহত্তর উন্নতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।



















