চণ্ডীগড়, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জলন্ধরের কাছে লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (এলপিইউ)-তে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল বলে সোমবার জানাল পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (আপ)। কারণ, এই ঘটনায় পাঞ্জাবের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্য এবং বিদেশের পড়ুয়ারাও জড়িত ছিলেন। আপের দাবি, পাঞ্জাব পুলিশ সংযম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।
আপের মিডিয়া ইনচার্জ বলতেজ সিং পান্নু বলেন, পাঞ্জাবে পড়াশোনা করা প্রত্যেক পড়ুয়ার নিরাপত্তা সরকারের অগ্রাধিকার। গোটা ঘটনা তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-কে তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও তিনি জানান।
চণ্ডীগড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পান্নু বলেন, পাঞ্জাব বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বহু পড়ুয়া এখানে পড়াশোনা করতে আসেন।
তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ করে বহু ছাত্রী নার্সিং-সহ বিভিন্ন কোর্সে পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে পড়াশোনা করেন। তাঁদের নিরাপত্তা সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এলপিইউ এবং চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ তুলে পান্নু বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর যখন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়েছিল, তখন পাঞ্জাব পুলিশ পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি। লাঠিচার্জ বা পেলেট গান ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
পান্নুর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি গৌরব যাদবকে ব্যক্তিগতভাবে এলপিইউতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডিজিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা পড়ুয়া ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলে পরিস্থিতি বোঝার এবং নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনতে সরকার একটি এসআইটি গঠন করেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর পাঞ্জাব পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক ও সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তে উঠে আসা তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
পান্নু বলেন, অশান্তির ঘটনাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং তার পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এসআইটি। সম্পূর্ণ সত্য সামনে আসার জন্য তদন্তকে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দেওয়া জরুরি।
একইসঙ্গে সংবেদনশীল এই ঘটনাকে বিরোধী নেতারা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ করেন পান্নু। তাঁর দাবি, পড়ুয়াদের সঙ্গে জড়িত এমন পরিস্থিতিতে সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করা প্রয়োজন ছিল।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রধারী বহিরাগতদের প্রবেশের দাবি প্রসঙ্গেও পান্নু বলেন, পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা স্পষ্ট করেছেন যে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী ছিলেন না। তাঁদের পরিচয় ও উপস্থিতির কারণ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।
এদিকে এলপিইউ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি প্রায় ৫০টি দেশের পড়ুয়া পড়াশোনা করেন। তাঁদের আস্থা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষা করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, কিছু অসামাজিক ব্যক্তি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। এলপিইউ সম্প্রদায়ে এই ধরনের আচরণের কোনও স্থান নেই বলে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।
–আইএএনএস



















