মুম্বই, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারত। একইসঙ্গে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়েও আবু ধাবির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে সোমবার জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল।
মুম্বইয়ে ভারত-ইউএই হাই-লেভেল জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স অন ইনভেস্টমেন্টস-এর ১৪তম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় গয়াল বলেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির জোগান সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে ইউএইর সঙ্গে জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ভারত।
গয়াল বলেন, “ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে এলএনজি ও এলপিজির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি আবু ধাবির সঙ্গে পেট্রোলিয়াম মজুতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।”
২০২৬ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইউএই সফরের সময় দুই দেশ অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণ, কৌশলগত মজুত, এলএনজি ও এলপিজি পরিকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। সাম্প্রতিক আলোচনাগুলি সেই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বলেই জানানো হয়েছে।
এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড (আইএসপিআরএল) এবং আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি)-র মধ্যে একটি কৌশলগত চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় ইউএই ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ পরিকাঠামোয় সর্বোচ্চ ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত করতে পারবে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম এবং ওড়িশার চণ্ডিখোলের মজুত কেন্দ্রগুলিতে এই ব্যবস্থার সম্ভাব্য বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও, ভারতের কৌশলগত অপরিশোধিত তেলের মজুতের একটি অংশ হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত ইউএইর গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ফুজাইরাহতে সংরক্ষণ করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জিওপলিটিক্যাল অনিশ্চয়তার সময়ে এই ধরনের ব্যবস্থা জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল করতে এবং দেশের কৌশলগত জ্বালানি মজুত পরিচালনায় অতিরিক্ত নমনীয়তা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
—আইএএনএস



















