নয়াদিল্লি, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দিল্লি-এনসিআরে সাম্প্রতিক একাধিক ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় সোমবার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি আমলে নিল সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্যে দিল্লির কালকাজি মন্দিরের কাছে একটি পার্কে ১৭ বছরের কিশোরীর কথিত গণধর্ষণ এবং চলন্ত স্লিপার বাসে এক নাবালিকার কথিত যৌন নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে।
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে বলেছে।
দিল্লি-এনসিআরে বারবার যৌন অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত জানায়, জননিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
আদালত উল্লেখ করে, ভয় ও হিংসা থেকে মুক্ত হয়ে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পার্ক, রাস্তা, বাস, মেট্রো স্টেশন, সাবওয়ে ও ফুটব্রিজের মতো জনপরিসর অপর্যাপ্ত আলো, নজরদারি বা টহলের মতো প্রশাসনিক ঘাটতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হতে পারে না বলেও পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত।
কালকাজি মন্দিরের কাছে ঘটনার প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর এক বন্ধুর সঙ্গে মন্দিরে গিয়েছিল ১৭ বছরের ওই কিশোরী। পরে কাছের একটি পার্কে গেলে তিন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে তাদের হুমকি দেয় এবং মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। এরপর দু’জন তাকে পার্কের নির্জন অংশে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের একজন আসিফ আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের কাছে ফোন যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছয়। পরে আসিফ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অবস্থায় ধরা পড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্তের সন্ধান চলছে।
স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় উত্তরপ্রদেশের মইনপুরীর এক ১৬ বছরের কিশোরীর চলন্ত স্লিপার বাসে কথিত যৌন নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে। অভিযোগ, বাসের চালক ও কন্ডাক্টর তাকে যৌন নির্যাতন করে পরে দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে নামিয়ে দেয়।
এই ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে দিল্লি ও গৌতম বুদ্ধ নগরের পুলিশ কমিশনার এবং মইনপুরীর পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়েছিল। পুলিশ চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বাসটি বাজেয়াপ্ত করে। তদন্তকারীরা বাসটির যাত্রাপথের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছেন।



















