আগরতলা, ২৮ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (টিটিএএডিসি) ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। একইসঙ্গে রবিবার বামুটিয়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয়ে ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়।
সোমবার আগরতলায় একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানিক সরকারের বামুটিয়া সফরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি নিজে খোঁজ নিয়েছেন। পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় ডাবল এসকর্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ডা. মানিক সাহা বলেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নিয়েছিলাম। পুলিশ দপ্তর থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, তাঁর সফরের জন্য ডাবল এসকর্ট দেওয়া হয়েছিল। আমিও লক্ষ্য করেছি, তিনিও স্বীকার করেছেন যে পুলিশ অত্যন্ত ভালো কাজ করেছে।
ঘটনাস্থলে জমায়েত হওয়া মানুষজনের পরিচয় ও উপস্থিতির কারণ নিয়েও বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কেউ বলছেন সেখানে ১০,৩২৩-এর সঙ্গে যুক্ত মানুষজন ছিলেন। আবার কেউ বলছেন, রোজভ্যালি সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষজন সেখানে এসেছিলেন।
তবে জমায়েতের কারণ যাই হোক না কেন, এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেই থাকুক না কেন, এভাবে ঘটনা ঘটানো কোনওভাবেই কাম্য নয়। এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। গত ৩৫ বছরে যে ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে সবাইকে দূরে থাকার জন্য আমি বারবার আহ্বান জানাব।
এদিকে, দীর্ঘ ১০ বছর পর টিটিএএডিসি এলাকায় অনুষ্ঠিত ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। যারা এখনও ভোট দিতে বের হননি, তাঁদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজেদের নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আবেদন জানান তিনি।
ডা. সাহা জানান, তিনি রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁকে জানানো হয়েছে যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সকলকে বলব, ভয় না পেয়ে ভোট দিতে বেরিয়ে আসুন। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। আমি বলছি না যে আমাদের দলকেই ভোট দিতে হবে। আপনারা যাঁকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাঁকেই ভোট দিন। ভোট দেওয়া যেমন আপনার কর্তব্য, তেমনই এটি আপনার অধিকার।
ভোটারদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিত্ব কারা করবেন এবং আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নে কারা ভূমিকা রাখবেন, তা নির্ধারিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবের পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজ্যে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর জনজীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। সেই উপলক্ষে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই অভিযানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এগিয়ে এসে অংশগ্রহণ করছে। তাঁদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামাজিক সংগঠনগুলির অংশগ্রহণের ফলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে।
তিনি বলেন, সেবা সংকল্প অভিযান’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠার উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই অংশগ্রহণ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।



















