কাঠমান্ডু, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নেপালের পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলা মানাংয়ে মাউন্ট হিমলুংয়ের বেস ক্যাম্প এলাকায় তুষারধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক সরকারি আধিকারিক।
মানাংয়ের প্রধান জেলা আধিকারিক মুক্তি প্রসাদ খানাল আইএএনএসকে জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুটি দেহ কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে এবং আরও দুটি দেহ হেলিকপ্টারে করে মানাংয়ের জেলা সদর চামে নিয়ে আসা হয়েছে।
৭,১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধসের সময় বিভিন্ন অভিযাত্রী সংস্থার দুই ডজনেরও বেশি গাইড ও সহায়ক কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। শরৎকালীন পর্বতারোহণ মরশুমের আগে তাঁরা দড়ি স্থাপন এবং তাঁবু তৈরির কাজে সেখানে ছিলেন।
খানাল জানান, দুর্ঘটনার পর ১১ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, তুষারধসের সময় বেস ক্যাম্পে মোট ২৭ জন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার ভোর থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বেস ক্যাম্পে উদ্ধারকাজ চালাতে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। টানা কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টির পর আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় উদ্ধারকাজে সুবিধা হয়েছে বলে জানান খানাল। প্রবল বৃষ্টির জেরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও বন্যার ঘটনাও ঘটেছে।
এর মাত্র এক মাস আগে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ভয়াবহ বন্যায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেছিল। একটি বিশাল হিমবাহ ধসে ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট ওই বিপর্যয়ে ১,৪০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ৫,০০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
নেপালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস পর্যটন। ভোতেকোশি বন্যার পরও দেশের অন্যান্য এলাকা নিরাপদ রয়েছে জানিয়ে পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণের আহ্বান জানিয়ে আসছে সরকার।
এর আগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে তুষারপাতের পূর্বাভাসের কারণে মানাং জেলা প্রশাসন ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি উচ্চ-উচ্চতার এলাকায় ট্রেকিং নিষিদ্ধ করেছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রাণহানির সম্ভাবনা বিবেচনা করে জেলা নিরাপত্তা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালের বিভিন্ন অংশে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বেশ কয়েকটি নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, মানাংয়ে মার্শ্যাংদি নদীর উজানে ভূমিধসের ফলে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে নেপালি সেনা। ভূমিধসের কারণে নদীর একটি বড় অংশ আটকে রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ওই বাঁধ সরানোর প্রস্তুতিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান খানাল।
—আইএএনএস



















