ওয়াশিংটন, ২৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসার-সমর্থিত মেসাবি মেটালিক্সের ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মিনেসোটার মেসাবি আয়রন রেঞ্জে থাকা লৌহ আকরিক খনি এবং আইওয়ায় নির্মীয়মাণ নতুন ইস্পাত কমপ্লেক্সকে একত্রিত করে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত মার্কিন ইস্পাত সংস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে এসার গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা রবি রুইয়া এবং মেসাবি মেটালিক্সের চেয়ারম্যান রেওয়ান্ত রুইয়া উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং মার্কিন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান জন জোভানোভিচও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই বিনিয়োগের মধ্যে আইওয়ায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের একটি সমন্বিত ইস্পাত কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি মিনেসোটায় লৌহ আকরিক খনি ও পেলেটাইজিং কারখানায় ইতিমধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
সংস্থার দাবি, এটি আমেরিকার ইতিহাসে একটি সমন্বিত ইস্পাত কমপ্লেক্সে একক স্থানে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হবে। প্রকল্পটি মিনেসোটা ও আইওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মিনেসোটার নাশওয়াকে মেসাবি আয়রন রেঞ্জের খনিতে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। সংস্থার মতে, এটি ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত প্রথম নতুন লৌহ আকরিক খনি। বর্তমানে সেখানে ১,৫০০-র বেশি নির্মাণকর্মী এবং ২০০-র বেশি পূর্ণকালীন কর্মী রয়েছেন। খনি পুরোপুরি চালু হলে পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান প্রায় ৩৫০-তে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইওয়ার নতুন ইস্পাত কমপ্লেক্স নির্মাণে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। নির্মাণপর্বে ৮,০০০-এর বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। কারখানা চালু হলে অন্তত ১,৭৫০ জন পূর্ণকালীন কর্মী নিয়োগ করা হবে।
রবি রুইয়া বলেন, এই বিনিয়োগ এসারের বৈশ্বিক যাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা এবং তাঁর প্রয়াত ভাই শশী রুইয়ার বিশ্বমানের ব্যবসা গড়ে তোলার ভাবনার ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, ইস্পাত শিল্পে তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসার এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কর্মসংস্থানে অবদান রাখতে চায়।
মেসাবি মেটালিক্সের চেয়ারম্যান রেওয়ান্ত রুইয়া বলেন, এই প্রকল্প মিনেসোটার লৌহ আকরিক সম্পদকে আইওয়ার ইস্পাত উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং সম্পূর্ণ মার্কিন উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইস্পাত তৈরি করবে।
প্রকল্পে ডাইরেক্ট রিডিউসড আয়রন (ডিআরআই) এবং ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (ইএএফ) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থার দাবি, এই প্রযুক্তি প্রচলিত কয়লাভিত্তিক ব্লাস্ট ফার্নেসের তুলনায় শক্তি ব্যবহার ও নির্গমন কমাতে সহায়তা করবে।
_________



















